Skip to main content

Posts

Showing posts from 2024
 · ইতিপূর্বে আমি একাধিকবার ইরাকে সাদ্দামের বিরুদ্ধে মার্কিন কোয়ালিশনের অভিযানে ইরানিদের সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণের বিষয়ে লিখেছি। এখানে একজন ফরমার আমেরিকান আর্মি স্পেশাল ফোর্সেস সদস্যের মুখে শুনুন তার এই বিষয়ক নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা - "ফাল্লুজাহর দ্বিতীয় যুদ্ধে আমি এবং আমার টিম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। তখন আমরা আমাদের সাথে আমাদের ইরাকি কমাণ্ডোদেরও নিয়ে যাই। মূলত, ইরাকে আমার প্রথম ডেপ্লয়মেন্ট ছিলো অনেকটা Kinetic তথা Direct Action ভিত্তিক। কিন্তু, দ্বিতীয় বার ওখানে ফেরত যাওয়ার পর কমাণ্ডের তরফ হতে আমাদের জানানো হয় যে - "ওয়াশিংটন থেকে সাদ্দামের সময়কার সম্পূর্ণ ইরাকি সেনাবাহিনীকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুতরাং আমরা নতুন ইরাকি সেনাবাহিনী গঠন করতে চাচ্ছি। এর প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা সর্বপ্রথম একটা কমাণ্ডো ইউনিট দাঁড় করতে চাই। তোমাদের কাজ হবে এই নতুন কমাণ্ডোদের একাংশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।" সুতরাং, নির্দেশনা অনুসারে বাগদাদে এয়ারফিল্ডের পাশে থাকা আমাদের স্টেশন ছেড়ে দিই আমরা এবং পুরো টিম মূল শহরের ভেতরে এক বাড়িতে থাকতে শুরু করি। ওখানে আমাদের সাথে নতুন যুক্ত হওয়া আমাদের ইরাকি বন্ধুরাও ছ...
পহেলা আগস্ট, ২০০৫ সাল। স্থান হা'দিসা, আল-আনবার গভর্নরেট, ইরাক। যেখানে তখন সকাল। সূর্যের আলোয় চতুর্দিক আলোকিত। যখনকার কথা এখানে লেখা হচ্ছে, এই সময়রেখাতে সমগ্র ইরাক দখল করে নিয়েছে শত্রু এবং তার দোসরেরা। তবে, এই শত্রু তখনও আনবারের অন্তর্গত হা'দিসার সকালের স্নিগ্ধতা পুরোপুরি ছিনিয়ে নিতে পারেনি। কিন্তু, সে লক্ষ্যে তখন ক্রমেই অগ্রসর হচ্ছিলো ওরা! এরই অংশ হিসাবে ঐ দিন সকালে হা'দিসার শহরতলিতে এসে উপস্থিত হয় শত্রু বাহিনীর ০৬ সদস্য বিশিষ্ট এক বিশেষ দল। এদের পরিচয়, এরা United States Marine Corps (USMC) এর স্কাউট স্নাইপারদের টিম। স্কাউট স্নাইপারদের দায়িত্ব হলো রণক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রবেশ করা এবং প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারি করে পেছনে অবস্থানরত মেরিন রেজিমেন্ট কিংবা ডিভিশনের মূল অংশের হামলার সুবিধার জন্য শত্রুর দূর্বল স্থানকে আবিষ্কার করা। স্কাউট স্নাইপারদের এমন এলিমেন্টকে STA Team (Surveillance & Target Acquisition Team) বলা হয়। রিজিয়নাল মেরিন ফরমেশন কমাণ্ডারের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত হয় ওরা। অর্থাৎ, কোনো অঞ্চলে একটি STA Team এর উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট রিজিয়নে নিকট ভবিষ্যতে বড় আকারের মেরিন অ...
 · মাঝেমধ্যে আমি বুদ্ধিমান কিছু মানুষকে দেখে অবাক হয়ে যাই যে, তারা কিভাবে এখনও ISI বনাম RAW, MOSSAD বনাম Quds Force ইত্যাদির কথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিশ্বাস করেন! বেশিরভাগ মানুষের এমন মনে করার কারণ সংস্থাগুলোকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে প্রতীক, পতাকার আড়াল থেকে দেখা। আর এটা শুধুমাত্র ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন নয়, বরং পলিটিক্যাল পার্টি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দেখুন, ISI, Quds Force ইত্যাদি অর্গানাইজেশনকে কিন্তু এদের পতাকা বা প্রতীক চালায় না। এদের অ্যাসাইনমেন্টও পতাকা গিয়ে সম্পাদন করে না। অর্গানাইজেশনগুলোকে আমার-আপনার ন্যায় মানুষেরাই পরিচালনা করে থাকে। আর, এখানেই চলে আসে মানবিক দৃষ্টির বিষয়। প্রত্যেক মানুষ মাত্রই দু'টি ভূমিকার যেকোনো একটিতে থাকবে। নির্দেশদাতা এবং অনুগত। মানুষ এই দুইয়ের গণ্ডির বাইরে যেতে সক্ষম নয়। এবং এই দুই নীতি প্রযোজ্য মানুষের হাতে থাকা সকল বস্তু, সংস্থা, রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও। একারণেই আমরা পৃথিবীতে সাম্রাজ্য দেখি, আর দেখি সাম্রাজ্যের অনুগত ছোট ছোট রাজ্যকে। মনে করবেন না যে, সেই দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। সাম্রাজ্য আজও আছে, করদ রাজ্যগুলোও আজও আছে।...
   · তেল আবিব ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যখন আক্রমণ শুরু করে, তখন আমি আমার একাধিক বন্ধুকে (এবং আরও কাছের মানুষদের) বলেছিলাম যে, ভারত কিন্তু এই পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে দেখছে। র এবং মোসাদ খুব ঘনিষ্ঠ দু'টি অর্গানাইজেশন। এমনকি র এর শীর্ষ পর্যায়ের হিটম্যানদের প্রশিক্ষণ নেগেভের গোপন ফ্যাসিলিটিতে ইসরায়েলি স্পেশাল অপারেশন্স ইউনিটের হাতে হয়ে থাকে। আমার মতামত ছিল, তেল আবিব সবকিছু ঘটিয়েও যদি ফিলিস্তিনে সফলভাবে উতরে যায়, নয়াদিল্লি জিনিসটাকে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ইতিবাচক হিসাবে নিবে। এবং তেল আবিব কিন্তু সফলতার সাথে সেখানে নিজেদের নিয়মিত রক্ত প্রবাহিতকরণ কর্মসূচি চালু রাখতে এখন পর্যন্ত সক্ষম। ভারতের ফরেন পলিসি কিন্তু নরেন্দ্র মোদি, BJP কিংবা রাজিব গান্ধি ঠিক করে না। ওদের দীর্ঘমেয়াদি পলিসি ঠিক করা 'র' এর দায়িত্ব। 'র' হলো Strategic Level এর গোয়েন্দা সংস্থা। যারা কয়েক দশকের লক্ষ্যবস্তুকে সামনে রেখে কাজ করে। এবং ওদের সমস্ত পরিকল্পনার একটা End Game থাকে। যেহেতু বাংলাদেশকে নিয়ে 'র' এতো খেটেছে। বিগত তিন দশক তারা বাংলাদেশে খেটেই চলেছে। '৯০ এর দশকে পূর্ণ উদ্যমে শুরু করে...
 · ইণ্ডিয়া আজ উজানে তাদের নিয়মিত দুষ্কর্মের আরম্ভ করে দিয়েছে। গোমতি নদীর ওপর ওদের তৈরি Dumboor Reservoir এর গেট খুলে দিয়েছে ওরা। এটা ইতিমধ্যে সকলের জানা রয়েছে আমাদের। ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থিত এই রিজারভয়েরে তিনটি Flap Gate আছে। তন্মধ্যে গতকাল একটির এমন খুলে দেওয়াকে সাংবাদিকেরা রাজ্যটির বিগত ০৩ দশকের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে বিবেচনা করছেন। বলা হচ্ছে যে, অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে ভারতের প্রদেশটিতে সকল নদ-নদী ইতিমধ্যে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। এর মাঝে আবার Dumboor Gate খুলে দেওয়ার কারণে ভয়াবহ রূপ নিতে আরম্ভ করেছে বন্যা। ০৩ দশক পূর্বে যে পরিস্থিতিতে এই Gate খুলে দেওয়া হয়েছিল, আজকের পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকরা এখন বিবেচনা করছেন তার থেকেও মারাত্মক হিসাবে। বর্তমান এই গুরুতর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আমাদের সর্বপ্রথম করণীয় হলো - ০১| বন্যায় আক্রান্ত অঞ্চল সমূহে নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য পৌঁছাবার চেষ্টা শুরু করা। আশপাশের অভিজ্ঞ মানুষদের এই উদ্দেশ্যে সংগঠিত করতে আরম্ভ করা। ভারতের ত্রিপুরাতে ইতিমধ্যে বন্যা-পীড়িত মানুষের সাহায্যের জন্য National Disaster Response Force (NDRF) কে মোতায়েন করেছে ভারত সর...
 · (এই লেখাটি ২৩শে মার্চ, ২০২২ সাল তারিখে সর্বপ্রথম প্রকাশ করা হয়েছিলো। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুনরায় তা কিছুটা পরিমার্জন সহকারে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো) কাশ্মির ফাইলসের নাম সম্ভবত আপনারা প্রত্যেকেই শুনেছেন। দি কাশ্মির ফাইলস। ভয়ঙ্কর মিথ্যা তথ্য সম্বলিত এই ফিল্ম ১১ই মার্চ, ২০২২ তারিখে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে মুক্তি পায়। মুক্তির সাথে সাথে এই চলচ্চিত্র ভারতের পদস্থ সরকারি কর্মচারী থেকে আরম্ভ করে শিশু-কিশোর পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মানসিকতায় এক বিরাট পরিবর্তন এনে দেয়। অধিকাংশ ভারতীয় এই প্রোপাগাণ্ডার কারণে হয়ে ওঠে অতিমাত্রায় উগ্রপন্থি। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, ফিল্মটি প্রকাশের কিছুদিন পূর্বেও যে ছেলেটা Facebook এ নরেন্দ্র মোদিকে ট্রল করতো, সে কাশ্মির ফাইলস দর্শনের পর নরেন্দ্র মোদি এবং তার দলের উগ্রবাদি নীতির মারাত্মক ভক্তে পরিণত হয়েছে। লেখার এই অংশে সম্মানিত পাঠকের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন থাকবে। তা হলো, থিয়েটার থেকে কাশ্মির ফাইলস দেখে বেরিয়ে আসা দর্শকদের থেকে আপনারা কেমন শ্লোগান শুনেছেন? উত্তরে এই বিষয়ে অবগতরা সকলে সম্ভবত একমত হবেন যে, সেখানে মুসলিম মেয়েদেরকে জোরপূর্বক বি...
অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক ও বিশ্লেষক Cj Werleman সম্প্রতি একটা মন্তব্য করেছিলেন। সিরিয়া বিষয়ক ঐ মন্তব্যে তিনি বলেন যে - "সিরিয়া আজ পর্যন্ত টিকে আছে প্রত্যেক মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ, সততা এবং গণমাধ্যম সংক্রান্ত সচেতনতার পরিমাপক হিসাবে।" এবং এর চিহ্ন সর্বক্ষেত্রে লক্ষণীয়। আজ আমাদের দেশে যে দূর্যোগময় ঘোলাটে পরিস্থিতি, তার পেছনের পরিকল্পনার পূর্ণ চিত্র হয়তো আমাদের সামনে ইতিমধ্যে চলে আসতো। যদি কিনা আমাদের জ্ঞানী ব্যক্তিরা "সিরিয়া" পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর রাখতেন। আমাদের সামনে যে Illusion তৈরি করে রাখা হয়েছে, তা ভাঙতে চাইলে সিরিয়ার দুর্যোগকে ভাঙা দরকার।  আর তা করবার সময় মাথায় রাখতে হবে, "বৃহত্তর স্বার্থে জালিমের পক্ষে একটা শব্দ উচ্চারণ করাও মহা অপরাধ।" অনর্থক বৃহত্তর স্বার্থের পিছনে না ছুটে ন্যায়ের পেছনে ছুটি। বড় স্বার্থ পূর্ণ করার ক্ষমতা আমার হাতে না। অত্যাচারীর হাতে তো একদমই না।
   · ইরানের পৃষ্ঠপোষকতায় বাশার আল-আসাদের হাতে সিরিয়ার মুক্তিকামী জনতার নির্যাতিত হওয়া নিয়ে আমি ইতিপূর্বে সামান্য লেখালেখি করেছি। কিছুক্ষণ পূর্বে সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের একটি বিবরণী দেখে তাই আমার সিরিয়ার এক দৃশ্যের কথা মনে পড়ে গেলো। জালেমের অত্যাচার যে সবসময় সর্বত্র একইরকম, তার একটা প্রমাণ হলো এটা। '২৪ এর জুলাই মাসের ১৯ তারিখে BRAC University এর কাছাকাছি এলাকাতে পুলিশের গুলিতে মারুফ হুসাইন নামে একজন তরুণের প্রাণ যায়। এর কিছুক্ষণ পূর্বে সেখানে জুমার নামাজ শেষ হয়েছে। যাইহোক,খবর পেয়ে মারুফকে (মারুফের লাশ) আনতে অতঃপর তাঁর বাবা DMCH (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) এর মর্গে সেদিন সন্ধ্যাবেলায়ই হাজির হন। কিন্তু, প্রথমদিন তাঁর নিকট তাঁর ছেলেকে ফেরত দেওয়া হয়নি। মারুফ তাই পড়ে থাকলেন সেদিন মর্গের মেঝেতে। পরের দিন মারুফের বাবা আবারও যান DMC তে। এদিন পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ওদের অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা তাঁকে প্রচণ্ডভাবে অপমান করে। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করা হয়। নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর তারা জানায় যে, মারুফের বাবা যদি "ছেলে গুলিতে নয় বরং সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে" মর...
 বাংলাদেশে ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত লেখাটিতে আমি উল্লেখ করেছিলাম যে, ইণ্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্স বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের মাঝে '৯০ দশকের প্রথমার্ধে বড় আকারে সফল অনুপ্রবেশ সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছিল। এক্ষেত্রে তথ্যটি যে বই থেকে নেওয়া হয়েছিল সেখানে লেখক আরও লিখেছিলেন যে, কিভাবে এই Infiltration গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের গণ্ডি পেরিয়ে ইসলামপন্থী গণতান্ত্রিক দলেও করা হয়েছিল! বর্ণনা অনুসারে, 'র' তখন এমন একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মাঝে অনুপ্রবেশ করতে সমর্থ হয়, যাদের সকল নেতাকর্মী ভারতের কট্টর বিরোধী মর্মে জনতার নিকট পরিচিত। তাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের একাংশ এসময় 'র' এর চরে পরিণত হন। এরা সহ বিভিন্ন দল তখন ক্ষমতায় থাকা BNP সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে ভারতীয় গুপ্তচরদের দুয়ারে ধর্ণা দিচ্ছিলো। দলটির বিশেষ এক নেতার বর্ণনাও বইয়ে এসেছে। যেখানে উক্ত নেতার পরণের পোশাক মুসলিমের ন্যায়। আচার-আচরণও যার পুরো ইসলামি। মুখে বিদ্যমান দাঁড়ি। যিনি ভারতের বিরুদ্ধে নিয়মিত আগুন ঝরা বিবৃতি দিতেন। অথচ "পাকিস্তানপন্থী" এই নেতা বিশেষ করে '৯৪ থেকে '৯৬ পর্যন্ত ব...
 ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর CIA একটা রিপোর্ট তৈরি করে। যার শিরোনাম ছিলো "Indian Military Capabilities for Intervention in Bangladesh"। রিপোর্টটা মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (DIA) রিভিউ করে। যেখানে বাংলাদেশের ওপর একটা সম্ভাব্য ভারতীয় সামরিক আগ্রাসনের চিত্র অঙ্কিত হয়। রিপোর্টটা আজ থেকে ৪৮ বছর আগের। কিন্তু, এর বিষয়বস্তু আজ ৪৮ বছর পর অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ঐ রিপোর্টে ভারতের পরিকল্পনা নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। তবে, বিশেষ কিছু কথা সেখান থেকে এখানে তুলে আনা হবে। যেমন, CIA এর বিশ্লেষক বলছেন - "India could readily commit ground forces of over 150,000 men. Without significantly weakening it's defense against China & Pakistan. Against Bangladesh Ground Forces of no more than 87,000 men who are already partially demoralized." এখানে বলা হয়েছে যে, ভারত বাংলাদেশের ভূখণ্ডে দেড় লক্ষ সেনার সমপরিমাণ শক্তি প্রয়োগ করতে সক্ষম। এক্ষেত্রে পাকিস্তান এবং চীনের বিরুদ্ধে ওদের প্রতিরক্ষায় তেমন চাপ সৃষ্টি হবে না। তবে এখানে বা...
   · মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Global War on Terror এর প্রারম্ভে আফগানিস্তানে তাদের আক্রমণকে জাস্টিফাই করতে মিডিয়ার সাহায্যে একটা Video Clip ছড়িয়েছিল। ক্লিপটা সম্ভবত আপনারা দেখেছেন। যেখানে দেখা যায়, আপাদমস্তক নীল বোরকায় ঢাকা একজন নারীকে প্রথমে বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে হাটু গেড়ে বসানো হয়। এরপর তার পেছনে কালাশনিকভ সিরিজের রাইফেল হাতে হাজির হন একজন ব্যক্তি। তিনি উক্ত নারীর পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর মাথা বরাবর গুলি চালালে সেখানেই তাঁর প্রাণহানি ঘটে। ১৭ই নভেম্বর, ১৯৯৭ সাল তারিখে কাবুল অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ঘটা এই কাণ্ডের দৃশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ার হাতে তুলে দেয় Revolutionary Association of the Women of Afghanistan (RAWA) নামক একটি সংগঠনের কতিপয় সদস্য। যা দেখার পর মার্কিন ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পায়। আফগানিস্তানে হামলার পূর্বে তাদের এমন কিছু দরকার ছিলো, যা দেখিয়ে তারা প্রমাণ করতে পারবে যে, আফগানরা বর্বর ও পশ্চাৎপদ জাতি। যাদের মাঝে নারীদের অধিকার নাই। যারা নারীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। সুতরাং, আমরা আমেরিকানরা ০৯/১১ এর টুইন টাওয়ারে হামলার প্রতিশোধ নিতেই শুধু যাচ্ছি এমন...
 সাম্প্রতিক সময়ে Ten Trucks Arms & Ammunition Haul নিয়ে মানুষকে বেশ সজাগ দেখতে পাচ্ছি। আপনারা নিশ্চয়ই এটাও দেখছেন যে, দশ ট্রাক অস্ত্রের অপারেশনটির সাথে জড়িত মানুষগুলো এখন কোথায় আছেন এবং কেমন আছেন। যারা জানেন না তাদের জন্য ইন শা আল্লাহ পুরো বিষয়টা নিয়ে লেখা হবে। তবে, আপাতত চলুন আমরা তুরস্কে অনুরূপ আরেক ইনসিডেন্টের দিকে নজর বুলিয়ে আসি। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের কথা এটা। ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখ। তুরস্কের আদানা প্রদেশের অভ্যন্তর দিয়ে দ্রুততার সাথে পাড়ি দিচ্ছে ০৩টি মালবাহী লরির কনভয়। গন্তব্য তাদের সিরিয়ান সীমান্ত অঞ্চল। নিশ্চিন্তে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে থাকা এই কনভয়টির অফিসিয়াল পরিচিতি হলো, তারা সিরিয়ার অভ্যন্তরে থাকা নিপীড়িত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা বহন করছে। তবে, এখানে বাস্তবতা ছিলো অনেক বেশি মারাত্মক! আদানার বিচার বিভাগের চিফ প্রসিকিউটর এই বাস্তবতা সম্পর্কে যেভাবেই হোক অবগত হয়ে যান। তাই কনভয়টি তার জুরিসডিকশনের মধ্যে অবস্থান করছে এই তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ামাত্র তিনি আদানার পুলিস ডিপার্টমেন্টকে কনভয় থামাবার অর্ডার দেন। তবে, প্রদেশের গভর্নর এমন তৎপরতার ব্যাপারে আগে থেকে জা...
 · আজ সকালে সিরিয়ার অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে লেখা একটি রচনা পড়ার দূর্ভাগ্য হয়েছে আমার। যেথায় লেখক মহোদয় দাবি করেছেন যে, সিরিয়ার অস্থিতিশীলতা আরম্ভের সময় দেশটির প্রশাসনের ৯৮ শতাংশ ব্যক্তি ছিলেন সুন্নি ঘরানার। বাকি লেখাটা থাক। আপাতত সময়-স্বল্পতার কারণে শুধুমাত্র ছোট্ট করে দেখার চেষ্টা করি যে, এই কথাটা কতটুকু নির্ভুল। আমরা ভালো করে জানি যে, স্বৈরশাসনের অধীনে যেসমস্ত দেশ চলে, তাদের সত্যিকার প্রশাসন বলতে বোঝায় মূলত সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বাহিনী এবং গোয়েন্দা বাহিনী তথা সংশ্লিষ্ট দেশটির সিকিউরিটি অ্যাপারাটাসকে। সকালে আমি যে লেখাটি পড়েছি, তার সময়রেখা ছিল ২০১০ সাল। চলুন দেখে নিই, ২০১০ এর দিকে সিরিয়ার এসব জায়গার কোথায় ৯৮ শতাংশ সুন্নি ছিলেন। বাশার আল-আসাদের সম্প্রদায়, আলাওয়িরা ছিল সংখ্যায় ২০১০ সালে (আরেক নাম নুসাঈরি। নুসাঈরি ভালো শোনায়, অতএব এটাই বলব এরপর) সিরিয়ার মোট জনগোষ্ঠীর ১২ শতাংশ। কিন্তু নানান স্টাডি থেকে আমরা জেনেছি যে, তখন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৭০ শতাংশ সৈনিক এই সম্প্রদায়ের ছিল। সেনা কর্মকর্তাদের দিকে তাকালে, ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কর্মকর্তা এদিকটাতেও ছিল আলাওয়ি। সিরিয়ান সামরিক বাহি...
 ২০শে জুমাদাল উলা, ৮৫৭ হিজরি। সেন্ট রোমানুস গেট, কনস্টান্টিনোপল। ৫৭০ বছর আগের কথা। ইতিহাসের পাতায় সময়টা ছিল এক নতুন অধ্যায় রচনার মূহুর্ত। রক্ত আর আগুনের মিশ্রণে তৈরি কালিতে যে অধ্যায়ের শিরোনাম লিখছিলেন উসমানি সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের বাহিনী। যেখানে পৃষ্ঠা ছিল হাজার বছর ধরে অপরাজেয়, কনস্টান্টিনোপলের প্রাচীর! ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যে প্রাচীর আজ হার মানতে চলেছে। খুলে দিতে চলেছে বহু শতাব্দী যাবত অগণিত দিগ্বিজয়ী সেনাপতির আক্রমণের মুখে নির্বিকারভাবে দণ্ডায়মান থাকা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানীর দ্বার! কিন্তু, এমন বিরাট কীর্তি তো সহজে ধরা দিবে না! ইতিহাস রক্তের কালিতে লেখা একটি বইয়ের নাম। আর, কালির পরিমাণ যার যত হবে, তার অধ্যায়ের বিস্তৃতিও হবে তত বেশি। উসমানিদের ২০শে জুমাদাল উলার সকালটা তাই কেটে গেলো এই কালির সরবরাহেই। সেদিন সকালের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ মাত্রার নির্মম। সকাল নামার পূর্বে সমগ্র রাতজুড়ে উসমানি সেনাবাহিনী যিকির-আযকার, তাসবিহ-তাহলিল আর দু'আর মাঝে কাটিয়ে দেন। এসময় সুলতান তাঁর সাথীদের বলেছিলেন - "আমরা আগামীকাল যোহরের নামাজ আয়া সুফিয়ার গির্জায় আদায় করব, ইন শা আল্লাহ!...
 · নর্থ-ওয়েস্টার্ন ইরানের দূর্গম পার্বত্যাঞ্চলের ঘন সবুজ জঙ্গলে Crash এর পর লম্বা সময় পেরিয়ে গেছে। এখনও নিখোঁজ ইরানের তথাকথিত VIP Transport হেলিকপ্টারের আরোহীরা। হাতে সময়ের সাথে সাথে নতুন তথ্য আসছে, একইসাথে তা নতুন নতুন প্রশ্নেরও জন্ম দিচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট, ফরেন মিনিস্টার সহ সিনিয়র গভর্নমেন্ট অফিসিয়ালদের নিয়ে ফ্লাই করা হেলিকপ্টারটি ছিল একটা Bell-212। এই কথা আমাকে অবাক করেছে। আমি ধরে নিয়েছিলাম যে, ক্র্যাশ হওয়া হেলি নিশ্চয়ই একটা Mi-171 হেলিকপ্টার হবে। কারণ, ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত শাখার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পাশাপাশি এই হেলিকপ্টারগুলোকে অনেক ভালোভাবে মেইনটেইনও করা হয়। এর বাইরে, এরা বিপদজনক আবহাওয়াতে খুব দারুণ কাজে দেয়। অথচ, ইরানের প্রেসিডেন্টকে তার প্রটেকশন ডিটেইল, ফ্লাইট ক্রু তুললো গিয়ে কিনা Bell-212 তে। অবরোধের ধাক্কায় যার কিনা স্পেয়ার পার্টসের কোনো ঠিক-ঠিকানা আছে বলে মনে হয় না। এরপর আসে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বিষয়। এক্ষেত্রে আবহাওয়া পূর্ব থেকে অনুমান না করতে পারলে ফ্লাইট প্ল্যানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দোষ দেওয়া মুশকিল। কারণ, পাহাড়ি অঞ্চলে কখন আবহাওয়া ঝকঝকে ...
 চাণক্য ছিলেন মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের উপদেষ্টা। চন্দ্রগুপ্তের হাতে তক্ষশীলার নিয়ন্ত্রণ আসার পর তিনি এই সুপরিচিত বিদ্যাপীঠে পাঠদান করতেন। এই বুদ্ধিজীবির হাত ধরে তখন চন্দ্রগুপ্তের সাহায্যে শুরু হয় মিলিটারি সায়েন্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইকোনমিক পলিসি, স্পাইক্র্যাফট, স্টেটক্র্যাফট বিষয়ক এক গ্রন্থের কাজ। যাকে আজ মানুষ অর্থশাস্ত্র নামে জানে। এই অর্থশাস্ত্র বইয়ের গুপ্তচরবৃত্তি বিষয়ক পাঠের ভেতর Honey Trap নামের এক বিশেষ কৌশলের বর্ণনা করা হয়েছে। যেখানে উল্লেখিত হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রাচীন নারী গুপ্তচর এবং গুপ্তঘাতক সংগঠনের কথা। অত্যন্ত সুন্দরী এসব মেয়েদের সেকালে বলা হতো বিষকন্যা! খুব ছোটবেলা হতে যাদেরকে বিভিন্ন রকমের বিষাক্ত সাপ ও অন্যান্য বস্তুর বিষ পান করানো হতো। এক্ষেত্রে প্রথমে পরিমাণে খুব কম বিষ দেওয়া হতো। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতো এর পরিমাণ। এর মাধ্যমে এসব মেয়েদের শরীরে বিষের ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি তৈরী হতো। একইসাথে কিছুক্ষেত্রে শরীরের অভ্যন্তরে থাকা সর্বপ্রকার তরল পদার্থ নিজেরাও আলাদাভাবে বিষের ন্যায় কাজ শুরু করতো। মেয়েদের বড় একটা অংশ এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে বেঁচে ...
 ০৪ঠা জুলাই, ১৯৭৬ সাল। এন্টেবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, উগাণ্ডা। রাত তখন ১১টা বেজে ৪৫ মিনিটের আশপাশে। অল্প কিছুক্ষণ পূর্বে এই এয়ারপোর্টে বয়ে গেছে এক বিধ্বংসী টর্নেডো। '৭৬ সালের জুনের ২৭ তারিখে তেল-আবিব থেকে প্যারিসের উদ্দেশ্যে ডিপারচারের পর ছিনতাই হওয়া Air France এর এয়ারবাসকে ফিলিস্তিনি গেরিলারা ঘুরিয়ে এই এয়ারপোর্টেই অবতরণ করিয়েছিলেন। এরপর থেকে জুলাইয়ের ০৩ তারিখ পর্যন্ত বিমানটি উগাণ্ডার রাষ্ট্রপ্রধান ইদি আমিনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বন্দিদের সহ এই বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলো। অতঃপর, ০৪ তারিখ হতে তখন বাকি মাত্র এক ঘন্টা, এমন সময়ে দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে নতুন কিছু চরিত্রের। ঘড়ির কাঁটা তখন কাঁটায় কাঁটায় এগারোটার ঘর স্পর্শ করেছে। এমন সময় আচমকা অন্ধকার আকাশ চিরে এয়ারপোর্টের রানওয়ের ওপর উদয় হলো দানবীয় অবয়ব! দেখতে না দেখতে সেটা দ্রুতগতিতে এন্টেবের রানওয়েতে নেমে আসে। ততক্ষণে ওখানে থাকা সকলের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে অবয়বটির পরিচয়! শূণ্য থেকে ভূতের মতো উদয় হওয়ার পর হঠাৎ যে এয়ারক্রাফট এখানে অবতরণ করেছে, সেটা একটা সি-১৩০। মিলিটারি ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট। রিয়ার কার্গো ডোর খোলা অবস্থায় বিমানটা যখন এন্...
 Tonight, all the puppets will play their part. It begins with The Iranians, The Jordanians, The Americans & ends with Israelis.