·
তেল আবিব ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যখন আক্রমণ শুরু করে, তখন আমি আমার একাধিক বন্ধুকে (এবং আরও কাছের মানুষদের) বলেছিলাম যে, ভারত কিন্তু এই পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে দেখছে। র এবং মোসাদ খুব ঘনিষ্ঠ দু'টি অর্গানাইজেশন। এমনকি র এর শীর্ষ পর্যায়ের হিটম্যানদের প্রশিক্ষণ নেগেভের গোপন ফ্যাসিলিটিতে ইসরায়েলি স্পেশাল অপারেশন্স ইউনিটের হাতে হয়ে থাকে।
আমার মতামত ছিল, তেল আবিব সবকিছু ঘটিয়েও যদি ফিলিস্তিনে সফলভাবে উতরে যায়, নয়াদিল্লি জিনিসটাকে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ইতিবাচক হিসাবে নিবে। এবং তেল আবিব কিন্তু সফলতার সাথে সেখানে নিজেদের নিয়মিত রক্ত প্রবাহিতকরণ কর্মসূচি চালু রাখতে এখন পর্যন্ত সক্ষম। ভারতের ফরেন পলিসি কিন্তু নরেন্দ্র মোদি, BJP কিংবা রাজিব গান্ধি ঠিক করে না। ওদের দীর্ঘমেয়াদি পলিসি ঠিক করা 'র' এর দায়িত্ব। 'র' হলো Strategic Level এর গোয়েন্দা সংস্থা। যারা কয়েক দশকের লক্ষ্যবস্তুকে সামনে রেখে কাজ করে। এবং ওদের সমস্ত পরিকল্পনার একটা End Game থাকে।
যেহেতু বাংলাদেশকে নিয়ে 'র' এতো খেটেছে। বিগত তিন দশক তারা বাংলাদেশে খেটেই চলেছে। '৯০ এর দশকে পূর্ণ উদ্যমে শুরু করেছে, আর গত ০৫ই আগস্ট পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে তা চলেছে। রেল লাইন করেছে, পোর্ট নিতে চেয়েছে, রাজনৈতিক সকল দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, বাহিনীগুলো ধ্বংস করেছে, বাহিনীগুলোর ভেতরে সর্বোচ্চ মাত্রায় অনুপ্রবেশ করেছে। এতো কিছু স্রেফ যে কয়দিন Madam Dictator আছেন সে কয়দিন ভোগ করতে করেছে? শত শত কোটি রূপি ওরা এদেশে বিনিয়োগ করেছে এই দীর্ঘসময়টাতে। সমস্ত সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
এখন আপনি Madam Dictator কে সরিয়ে দিয়েছেন, আর তাতে ওদের সব ভণ্ডুল হয়ে গিয়েছে? না। তবে ওরা কিছু না করলে হতে সময় লাগবে না। ওরা ওদের End Game একটা নির্ধারন করে রেখেছে। সেটা ওরা অর্জন করতে চেষ্টা বন্ধ করেছে বলে মোটেও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের ভূখণ্ড যদি দরজা হয়, ক্ষমতার মসনদ হলো তালা, আর উনি ছিলেন ওদের চাবি। এখন চাবি হারিয়েছে ওরা। কিন্তু ওদের End Game হলো দরজা খোলা। চাবি হারালেও কিন্তু দরজা খোলা যায়!
Comments
Post a Comment