Skip to main content

 



 ·

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Global War on Terror এর প্রারম্ভে আফগানিস্তানে তাদের আক্রমণকে জাস্টিফাই করতে মিডিয়ার সাহায্যে একটা Video Clip ছড়িয়েছিল। ক্লিপটা সম্ভবত আপনারা দেখেছেন। যেখানে দেখা যায়, আপাদমস্তক নীল বোরকায় ঢাকা একজন নারীকে প্রথমে বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে হাটু গেড়ে বসানো হয়। এরপর তার পেছনে কালাশনিকভ সিরিজের রাইফেল হাতে হাজির হন একজন ব্যক্তি। তিনি উক্ত নারীর পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর মাথা বরাবর গুলি চালালে সেখানেই তাঁর প্রাণহানি ঘটে।

১৭ই নভেম্বর, ১৯৯৭ সাল তারিখে কাবুল অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ঘটা এই কাণ্ডের দৃশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ার হাতে তুলে দেয় Revolutionary Association of the Women of Afghanistan (RAWA) নামক একটি সংগঠনের কতিপয় সদস্য। যা দেখার পর মার্কিন ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পায়। আফগানিস্তানে হামলার পূর্বে তাদের এমন কিছু দরকার ছিলো, যা দেখিয়ে তারা প্রমাণ করতে পারবে যে, আফগানরা বর্বর ও পশ্চাৎপদ জাতি। যাদের মাঝে নারীদের অধিকার নাই। যারা নারীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। সুতরাং, আমরা আমেরিকানরা ০৯/১১ এর টুইন টাওয়ারে হামলার প্রতিশোধ নিতেই শুধু যাচ্ছি এমনটি নয়, বরং আমরা আফগানিস্তানের প্রগতিশীল সমাজ ও নারীদের মুক্ত করার লক্ষ্যেও সেখানে কাজ করতে চলেছি।

মোদ্দাকথা, কাবুল স্টেডিয়ামের এই একটি ভিডিও দিয়ে সমগ্র পৃথিবীতে তারা আফগানিস্তানের বর্বর সংস্কৃতির এক চিত্র অঙ্কন করে। আফগানিস্তানের লক্ষ মানুষের রক্ত এর মাধ্যমে পৃথিবীর সামনে হালাল করা হয়। অতঃপর ২০০২ সালের অক্টোবরে ABC News এর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টে উঠে আসে ঘটনার সামগ্রিক চিত্র। আরেক ভিন্ন চিত্র।

গুলিতে নিহত নারীটির নাম ছিল যারমিনা। যিনি সাত জন সন্তানের মা ছিলেন। ধারণা করা হয় যে, তার স্বামী নিজ পরিবারের ওপর নির্যাতন চালাতেন। এই নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে তিনি নিজ স্বামীকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কোনো এক পর্যায়ে যা বাস্তবায়ন করা হয়। এদিকে পরবর্তীতে তালেবান তদন্তের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুর কারণ হিসাবে স্ত্রীকে চিহ্নিত করেন। মহিলাকে আটক করেন তাঁরা। তখন উক্ত নারীর কোলে তার ০১ বছর বয়সী দুই যমজ সন্তান। সন্তানেরা মায়ের বুকের দুধের ওপর নির্ভরশীল হওয়াতে আফগানিস্তানের বিচার বিভাগ অপরাধী প্রমাণিত হওয়ার পরও মায়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তি কার্যকর করা হতে বিরত থাকে।

এরপর তিনি ০৩ বছর আফগান কারাগারে কাটান। সন্তানদের মায়ের ওপর নির্ভরশীলতা এর মাঝে কমে আসতে থাকে। অতঃপর সময় হয়ে এলে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে। Context ব্যতীত এই দন্ড কার্যকরের ভিডিও RAWA মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিলে মার্কিনীরা এই দৃশ্যকে ওয়েপনাইজ করে পৃথিবীব্যপী ছড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ ২০ বছর পরও যার প্রভাব এখনও বিদ্যমান রয়েছে।

এই ব্যাপারে এখন লিখবার উদ্দেশ্য হলো, আমাদের পাশে কিন্তু এক অশুভ শক্তির অবস্থান। তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত হয়ে বসে আছে সুযোগের অপেক্ষায়। এমতাবস্থায় আমাদের এমন কিছু রেকর্ড করা ঠিক হবে না, যা Context এর বাইরে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ধন্যবাদ।


Comments

Popular posts from this blog

 রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু Kaler Kantho এর কাছে গেলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওনার বঙ্গভবনে অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। উনি বলেন যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ওনাকে তখন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন। "সশস্ত্র বাহিনী আমাকে স্রেফ একটি কথা বলেছিল। তা হলো, মহামান্য! আপনি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিকনায়ক! আপনার পরাজয়ের অর্থ সমগ্র সামরিক বাহিনীর পরাজয়। আর আমরা যেকোনো মূল্যে সেটি রুখে দেওয়ার চেষ্টা করব! শেষে ওনারা তাই করেছেন। ওনারা বিভিন্ন সময়ে এসেছেন, আমাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন।" অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একবার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে ওনার পদ হতে সরাতে চেয়েছিল। তখন Chief of Army Staff, Chief of Naval Staff ও Chief of Air Staff তথা বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধান রুখে দাঁড়ান ও Muhammad Yunus কে বলেন যে, "আমরা সংবিধানের বিপরীত কোনো কার্যকলাপ সংঘটিত হতে দিব না!" যখন বঙ্গভবনের সামনে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের মানুষ রাষ্ট্রপতির পতনের দাবি নিয়ে জড়ো হয়েছিল, তখনো সামরিক বাহিনী উপরোক্ত অবস্থান ধরে রাখে। Party-BNP এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উক্ত সময়টিতে বিনা দ্বিধায় রাষ্ট্রপতির পাশে ছিলেন মর্মেও জা...
 [সতর্ক অবস্থানে ও সম্মানজনক পরিবেশে অডিও চালুর অনুরোধ রাখা হলো] "Will you invoke ba'al and forsake The Best of Artisans!" দুনিয়ার বুকে Jeffrey Epstein ও ওর বন্ধুদের শত্রুতা কেন ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, আফ্রিকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, কাশ্মির, আরাকান, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, উইঘুরে স্রেফ মুসলমানদের সাথে তাঁর জবাব এখানেই আছে। For context, Epstein ছিল বা'আলের পূজারি। অন্তত তেমনটিই বর্তমানে বিশ্লেষকদের ধারণা। আর, নিচে কুরআনুল কারিমের আয়াত।  "তোমরা কি বা'আলকে ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে!" মেক্সিকোয় একজন বিচারক এক নারী, শিশু, মানব পাচারকারীর বিচার করছিলেন। একজন গুপ্তঘাতক তাকে গুলি করে। জানা যায় যে, শুটার আমেরিকান। এর আগে কেসের দায়িত্বে থাকা Mexican Intelligence Community এর অফিসার ও তার পার্টনারকে ০৪ বার গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তার পার্টনার সেসময় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ০২ জন মার্কিন ইন্টেলিজেন্স অপারেটিভকে হত্যা এবং ০৫ জনকে আহত করেন। এই দু'জন মেক্সিকান ইন্টেলিজেন্স অফিসারকে তখন মেক্সিকোর ইঊ.এস দূতাবাসের ডিপ্লোম্যাটিক প্লেট ...
 ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীকে পাকিস্তান সরকার ৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে United States Intelligence Community (USIC) এর কাছে বিক্রি করেছিল Inter Services Intelligence (ISI)। জানিয়েছেন ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীর আইনজীবী। পাকিস্তানি ইন্টেলিজেন্স কমিঊনিটির জন্য অর্থের লোভে নিরপরাধ পাকিস্তানি নাগরিকদের বন্দি করে বিক্রি করা অবশ্য মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। ISI এর অফিসারদের CIA এর কাছে মানুষ বিক্রি করার এই স্বভাব এতখানি ভয়ানক পৈশাচিক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, খোদ CIA একটা সময়ে ইসলামাবাদকে জানায় যে, এভাবে আর কাউকে বন্দি করা হলে আমরা অর্থ পরিশোধ করতে পারব না। এখন থেকে তোমাদের কাছে কেউ থাকলে তোমরা কোনো বিনিময় ছাড়া তাঁকে আমাদের হাতে তুলে দিবে। কারণ, CIA দেখছিল যে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে ওদের হাতে যাদেরকে তুলে দিচ্ছে, তাঁদের বড় একাংশ একেবারেই সাধারণ মানুষ। ফলে, CIA বুঝতে পারে যে, ISI অফিসাররা মূলত আমেরিকানদের পরিশোধিত টাকার লোভে পড়ে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে ওদের হাতে উঠিয়ে দিচ্ছে। ওদের ধোঁকা দিয়ে সোজা কথায় পুরোপুরি নিরীহ, অসহায় মানুষদের নির্যাতন করিয়ে Scam করছে। ফলে, আমেরিকানরা পাকিস্তানিদ...