Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2024
 ২০শে জুমাদাল উলা, ৮৫৭ হিজরি। সেন্ট রোমানুস গেট, কনস্টান্টিনোপল। ৫৭০ বছর আগের কথা। ইতিহাসের পাতায় সময়টা ছিল এক নতুন অধ্যায় রচনার মূহুর্ত। রক্ত আর আগুনের মিশ্রণে তৈরি কালিতে যে অধ্যায়ের শিরোনাম লিখছিলেন উসমানি সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের বাহিনী। যেখানে পৃষ্ঠা ছিল হাজার বছর ধরে অপরাজেয়, কনস্টান্টিনোপলের প্রাচীর! ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যে প্রাচীর আজ হার মানতে চলেছে। খুলে দিতে চলেছে বহু শতাব্দী যাবত অগণিত দিগ্বিজয়ী সেনাপতির আক্রমণের মুখে নির্বিকারভাবে দণ্ডায়মান থাকা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানীর দ্বার! কিন্তু, এমন বিরাট কীর্তি তো সহজে ধরা দিবে না! ইতিহাস রক্তের কালিতে লেখা একটি বইয়ের নাম। আর, কালির পরিমাণ যার যত হবে, তার অধ্যায়ের বিস্তৃতিও হবে তত বেশি। উসমানিদের ২০শে জুমাদাল উলার সকালটা তাই কেটে গেলো এই কালির সরবরাহেই। সেদিন সকালের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ মাত্রার নির্মম। সকাল নামার পূর্বে সমগ্র রাতজুড়ে উসমানি সেনাবাহিনী যিকির-আযকার, তাসবিহ-তাহলিল আর দু'আর মাঝে কাটিয়ে দেন। এসময় সুলতান তাঁর সাথীদের বলেছিলেন - "আমরা আগামীকাল যোহরের নামাজ আয়া সুফিয়ার গির্জায় আদায় করব, ইন শা আল্লাহ!...
 · নর্থ-ওয়েস্টার্ন ইরানের দূর্গম পার্বত্যাঞ্চলের ঘন সবুজ জঙ্গলে Crash এর পর লম্বা সময় পেরিয়ে গেছে। এখনও নিখোঁজ ইরানের তথাকথিত VIP Transport হেলিকপ্টারের আরোহীরা। হাতে সময়ের সাথে সাথে নতুন তথ্য আসছে, একইসাথে তা নতুন নতুন প্রশ্নেরও জন্ম দিচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট, ফরেন মিনিস্টার সহ সিনিয়র গভর্নমেন্ট অফিসিয়ালদের নিয়ে ফ্লাই করা হেলিকপ্টারটি ছিল একটা Bell-212। এই কথা আমাকে অবাক করেছে। আমি ধরে নিয়েছিলাম যে, ক্র্যাশ হওয়া হেলি নিশ্চয়ই একটা Mi-171 হেলিকপ্টার হবে। কারণ, ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত শাখার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পাশাপাশি এই হেলিকপ্টারগুলোকে অনেক ভালোভাবে মেইনটেইনও করা হয়। এর বাইরে, এরা বিপদজনক আবহাওয়াতে খুব দারুণ কাজে দেয়। অথচ, ইরানের প্রেসিডেন্টকে তার প্রটেকশন ডিটেইল, ফ্লাইট ক্রু তুললো গিয়ে কিনা Bell-212 তে। অবরোধের ধাক্কায় যার কিনা স্পেয়ার পার্টসের কোনো ঠিক-ঠিকানা আছে বলে মনে হয় না। এরপর আসে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বিষয়। এক্ষেত্রে আবহাওয়া পূর্ব থেকে অনুমান না করতে পারলে ফ্লাইট প্ল্যানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দোষ দেওয়া মুশকিল। কারণ, পাহাড়ি অঞ্চলে কখন আবহাওয়া ঝকঝকে ...
 চাণক্য ছিলেন মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের উপদেষ্টা। চন্দ্রগুপ্তের হাতে তক্ষশীলার নিয়ন্ত্রণ আসার পর তিনি এই সুপরিচিত বিদ্যাপীঠে পাঠদান করতেন। এই বুদ্ধিজীবির হাত ধরে তখন চন্দ্রগুপ্তের সাহায্যে শুরু হয় মিলিটারি সায়েন্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইকোনমিক পলিসি, স্পাইক্র্যাফট, স্টেটক্র্যাফট বিষয়ক এক গ্রন্থের কাজ। যাকে আজ মানুষ অর্থশাস্ত্র নামে জানে। এই অর্থশাস্ত্র বইয়ের গুপ্তচরবৃত্তি বিষয়ক পাঠের ভেতর Honey Trap নামের এক বিশেষ কৌশলের বর্ণনা করা হয়েছে। যেখানে উল্লেখিত হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রাচীন নারী গুপ্তচর এবং গুপ্তঘাতক সংগঠনের কথা। অত্যন্ত সুন্দরী এসব মেয়েদের সেকালে বলা হতো বিষকন্যা! খুব ছোটবেলা হতে যাদেরকে বিভিন্ন রকমের বিষাক্ত সাপ ও অন্যান্য বস্তুর বিষ পান করানো হতো। এক্ষেত্রে প্রথমে পরিমাণে খুব কম বিষ দেওয়া হতো। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতো এর পরিমাণ। এর মাধ্যমে এসব মেয়েদের শরীরে বিষের ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি তৈরী হতো। একইসাথে কিছুক্ষেত্রে শরীরের অভ্যন্তরে থাকা সর্বপ্রকার তরল পদার্থ নিজেরাও আলাদাভাবে বিষের ন্যায় কাজ শুরু করতো। মেয়েদের বড় একটা অংশ এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে বেঁচে ...
 ০৪ঠা জুলাই, ১৯৭৬ সাল। এন্টেবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, উগাণ্ডা। রাত তখন ১১টা বেজে ৪৫ মিনিটের আশপাশে। অল্প কিছুক্ষণ পূর্বে এই এয়ারপোর্টে বয়ে গেছে এক বিধ্বংসী টর্নেডো। '৭৬ সালের জুনের ২৭ তারিখে তেল-আবিব থেকে প্যারিসের উদ্দেশ্যে ডিপারচারের পর ছিনতাই হওয়া Air France এর এয়ারবাসকে ফিলিস্তিনি গেরিলারা ঘুরিয়ে এই এয়ারপোর্টেই অবতরণ করিয়েছিলেন। এরপর থেকে জুলাইয়ের ০৩ তারিখ পর্যন্ত বিমানটি উগাণ্ডার রাষ্ট্রপ্রধান ইদি আমিনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বন্দিদের সহ এই বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলো। অতঃপর, ০৪ তারিখ হতে তখন বাকি মাত্র এক ঘন্টা, এমন সময়ে দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে নতুন কিছু চরিত্রের। ঘড়ির কাঁটা তখন কাঁটায় কাঁটায় এগারোটার ঘর স্পর্শ করেছে। এমন সময় আচমকা অন্ধকার আকাশ চিরে এয়ারপোর্টের রানওয়ের ওপর উদয় হলো দানবীয় অবয়ব! দেখতে না দেখতে সেটা দ্রুতগতিতে এন্টেবের রানওয়েতে নেমে আসে। ততক্ষণে ওখানে থাকা সকলের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে অবয়বটির পরিচয়! শূণ্য থেকে ভূতের মতো উদয় হওয়ার পর হঠাৎ যে এয়ারক্রাফট এখানে অবতরণ করেছে, সেটা একটা সি-১৩০। মিলিটারি ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট। রিয়ার কার্গো ডোর খোলা অবস্থায় বিমানটা যখন এন্...