·
আজ সকালে সিরিয়ার অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে লেখা একটি রচনা পড়ার দূর্ভাগ্য হয়েছে আমার। যেথায় লেখক মহোদয় দাবি করেছেন যে, সিরিয়ার অস্থিতিশীলতা আরম্ভের সময় দেশটির প্রশাসনের ৯৮ শতাংশ ব্যক্তি ছিলেন সুন্নি ঘরানার। বাকি লেখাটা থাক। আপাতত সময়-স্বল্পতার কারণে শুধুমাত্র ছোট্ট করে দেখার চেষ্টা করি যে, এই কথাটা কতটুকু নির্ভুল।
আমরা ভালো করে জানি যে, স্বৈরশাসনের অধীনে যেসমস্ত দেশ চলে, তাদের সত্যিকার প্রশাসন বলতে বোঝায় মূলত সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বাহিনী এবং গোয়েন্দা বাহিনী তথা সংশ্লিষ্ট দেশটির সিকিউরিটি অ্যাপারাটাসকে। সকালে আমি যে লেখাটি পড়েছি, তার সময়রেখা ছিল ২০১০ সাল। চলুন দেখে নিই, ২০১০ এর দিকে সিরিয়ার এসব জায়গার কোথায় ৯৮ শতাংশ সুন্নি ছিলেন।
বাশার আল-আসাদের সম্প্রদায়, আলাওয়িরা ছিল সংখ্যায় ২০১০ সালে (আরেক নাম নুসাঈরি। নুসাঈরি ভালো শোনায়, অতএব এটাই বলব এরপর) সিরিয়ার মোট জনগোষ্ঠীর ১২ শতাংশ। কিন্তু নানান স্টাডি থেকে আমরা জেনেছি যে, তখন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৭০ শতাংশ সৈনিক এই সম্প্রদায়ের ছিল। সেনা কর্মকর্তাদের দিকে তাকালে, ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কর্মকর্তা এদিকটাতেও ছিল আলাওয়ি। সিরিয়ান সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ইউনিট, প্রেসিডেনশিয়াল গার্ডের (সিরিয়ান রিপাবলিকান গার্ড) সকল সদস্য আলাওয়ি সম্প্রদায়ের অংশ ছিল। এই সংখ্যাটা কত বড় তার একটা উদাহরণ হলো, প্রেসিডেনশিয়াল গার্ডের সদস্য তখন কমপক্ষে ২৫ হাজার সৈনিক। উর্ধ্বে যে সংখ্যা ৫০ হাজারও অতিক্রম করে বিভিন্ন সময়ের অনেক রেকর্ডে।
সিরিয়ান আর্মির সেসময়কার কর্পস সংখ্যা ছিল ০৩টি। যার ০২টির কমান্ড ছিল আলাওয়ি গোষ্ঠীর লোকের হাতে। মাত্র ০১টি ছিল একজন সুন্নি জেনারেলের অধীনে।
এর বাইরে যদি আমরা সিরিয়ান ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলোর দিকে যাই, দেশটির সংখ্যালঘুরা এসমস্ত এজেন্সি পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করত। যার ধারাবাহিকতা এখন আরও বেশি চলমান আছে। এবং এই নিয়ন্ত্রণের আরম্ভ হয়েছিল আরও কমপক্ষে ০৫ দশক পূর্ব হতে। অতএব, উক্ত লেখক কোন প্রশাসনের ৯৮ শতাংশের কথা বলেছেন আমার বোধগম্য হলো না। রেলওয়ে প্রশাসন?
শেষকথা:
সংখ্যালঘুরা যোগ্যতার বলে একটা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে পারেন। কিন্তু, স্বাভাবিক নিয়মেই এই সংখ্যাটা খুব বেশি হয় না। কারণ, দেশের অভ্যন্তরে তাদের মূল সংখ্যাটাই যেহেতু কম। সুতরাং, যখন সামরিক বাহিনীর মতো স্থানে ৭০-৮০ শতাংশ হয়ে যান দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য, ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির শত ভাগ তারাই নিয়ে রাখেন, তখন স্বাভাবিক নিয়ম এটা যে, আমাকে ধরে নিতে হবে, কোথাও বিরাট সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এবং সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এক্ষেত্রে এটাই দাঁড়ায় যে, এখানে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগুরুদের দমন করছে।
Comments
Post a Comment