তখন গভীর রাত। চতুর্দিকে সুনসান নীরবতা। ঘুমিয়ে গিয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। দূর হতে ভেসে আসছে বিচ্ছিন্ন গুলিবর্ষণের আওয়াজ।
আমাদের আলোচ্য ঘটনার স্থান অজ্ঞাত। ঘটনার মূল চরিত্রদের নামও অজ্ঞাত। আর, আজকের আলোচ্য চরিত্র দ্বয় ছিলেন পরস্পরের জীবনসঙ্গী ও সঙ্গিনী। এবং ঠিক এই মূহুর্তটিতে তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন নিজেদের কক্ষে, তাঁদের নিজেদের বাড়িতে, ইরাকের ভূমিতে! তাঁদের উভয়ের আপাতত কোনো ধারণা নাই যে, ঠিক একই সময়টিতে বাগদাদের গ্রীন জোনে কিছু বীভৎস কালো হেলিকপ্টারের রোটর ঘুরতে শুরু করছে। লিফট-অফ করছে A Squadron, 1st Special Forces Operational Detachment - Delta এর একদল অপারেটর। যাদের একজনের পরিচয় হলো টম স্পুনার।
রাতের গভীরের কোনো একটি মূহুর্তে হেলিকপ্টারের ঝাঁক অপারেটরদের টার্গেটে ড্রপ করে দিলো। সামান্য সময়ের ব্যবধানে মার্কিন কমাণ্ডোরা কম্পাঊণ্ড ব্রিচ করে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। তার কিছুক্ষণের মাঝে টম স্পুনার ও সঙ্গী অপারেটররা আমাদের ইরাকি যুগলের কক্ষে এন্ট্রি করলো এবং সাথে সাথে স্পুনার বিছানায় ঘুমন্ত যুগলের মাঝ থেকে পুরুষটির মাথায় নিখুঁত ভঙ্গিতে কয়েকটি রাঊণ্ড গেঁথে দিলেন।
তার পরবর্তী বিবরণ চলুন, স্বয়ং মাস্টার সার্জেন্ট টম স্পুনারের মুখ থেকেই শুনে আসি আমরা।
"আমি যখন ফায়ার ওপেন করি, মানুষটা তাঁর স্ত্রীর সাথে বিছানায় ঘুমন্ত ছিল। আমার ফায়ার করার সাথে সাথে তাঁর মাথা সেখানে অদৃশ্য হয়ে গেলো। ততক্ষণে তাঁর স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন। আমি দেখলাম যে, মেয়েটা একবার তাঁর হাসব্যাণ্ডের দিকে তাকালো, সেখানে তাঁর অবশিষ্ট যতটুকু ছিল তার দিকে একবার নজর বুলালো, এরপর ওখানেই একেবারে নির্বিকার, শান্ত ভঙ্গিতে বসে রইলো!
আমি তখন অবাক হয়ে গেলাম! যে আমি এভাবে মারা পড়লে আমার ওয়াইফ অন্তত একটু কান্না করুক, এতটুকু আমি আশা করতাম। এই মেয়ের মাঝে বিপরীতে নাকি বিন্দুমাত্র কোনো অনুভূতির ছাপ নাই! আমি তখন ধরে নিলাম যে, এই লোকটা নিশ্চয়ই তাঁর স্ত্রীকে মার-পিট করতো। সে হয়তো এজন্য এখন এটাতে বরং স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে!"
এই বিবরণ শোনার পর আমার আসলে কিছু বলার ছিল না। তুমি গভীর রাতে একজনের বাড়িতে গিয়েছ। তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে ঢুকেছ। তারপর মেয়েটার হাসব্যাণ্ডকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছ! মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম দেখছে জ্বল-জ্বলে নাইট ভিশন সজ্জিত দানবীয় আঊটফিট আর অস্ত্রে সজ্জিত একটা কিল টিম, আর তাঁর পাশে তাকিয়ে দেখছে তাঁর জীবনসঙ্গীর মাথা, চেহারা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে!
এখন তিনি কি অভিব্যক্তি প্রদর্শন করবেন বলে আশা করো তোমরা! তাঁর তো এই ট্রমা থেকে বের হতেই হয়তো আজীবন লাগবে।
এটা হলো আমাদের আমেরিকান চিন্তাধারা।
Comments
Post a Comment