Skip to main content

 "Twenty-six degrees, fifty minutes north, fifty-six degrees, zero minutes east" শীর্ষক জায়গাটিতে গেলে আমরা দুনিয়ার এমন একটি স্থানের সন্ধান পাব, যার ওপরে ভর করে পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম হরমুজ প্রণালির বুকে নৌ-যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফিফথ নেভাল রিজিয়ন (ফরওয়ার্ড), ইরানি রেভলিঊশনারি গার্ড কর্পস কর্তৃক পরিচালিত অবস্থানটি মার্কিন সামরিক পরিভাষা অনুযায়ী একটি A2/AD Hub। A2/AD এর পূর্ণরূপ হলো Anti-Access/Area Denial।


IRGC Naval Base (South-Central), 112th Naval Combat Brigade Base (HQ), IRGC UAV Launch & Support Base এবং IRGC Mountain Storage Complex-1 এর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বিস্তীর্ণ সামরিক অঞ্চলটি হরমুজ প্রণালির বুকে ইরানের সক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। হরমুজ প্রণালির মাঝখানে ইরানের সামরিক বাহিনী এটিকে নিজেদের Main Operating Base (MOB) হিসাবে গড়ে তোলার পর একে কেন্দ্র করে যারা কিনা সমগ্র প্রণালির বুকে বিস্তীর্ণ জাল ছড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে সবার সামনে রয়েছে সর্ব দক্ষিণ-পূর্বের লারাক আইল্যাণ্ড। Radar and Coastal Defense Cruise Missile (CDCM) তথা Surface-to-Surface Missile (SSM) এর ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহৃত আলোচ্য অবস্থানটি প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশটিতে অবস্থিত। যেখানে ইরানিদের নুর মিসাইল ব্যাটারি অবস্থান করে। 


লারাকে মোতায়েন থাকা জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হলো ২২০ কিলোমিটার। যেখানে প্রণালির প্রশস্ততা হলো মাত্র ৩৯ কিলোমিটার। আবার, দানবীয় আকৃতির তেলবাহী যেসমস্ত জাহাজ এখান দিয়ে চলাচল করে, ওগুলো আবার আলোচ্য ৩৯ কিলোমিটারের মাঝে মাত্র ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সুনির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করতে পারে। যার ০৩ কিলোমিটার প্রণালির ভেতরের দিকে গমনকারী জাহাজের জন্য, আর ০৩ কিলোমিটার বহির্গামী জাহাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মাঝামাঝি ০২ কিলোমিটার সাগর ফাঁকা রাখা হয়, যেন শিপ গুলো মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার না হয়। বোঝার স্বার্থে অনেকটা বড় কোনো মহাসড়কের দু'পাশের লেন ও আইল্যাণ্ডের মতো করে ধরতে পারি বিষয়টিকে আমরা। আর, এমনটি হওয়ার কারণ হলো, উপরোক্ত ৩৯ কিলোমিটারের বেশিরভাগ মূলত অগভীর পানি ও প্রবাল-প্রাচীর (Reef) দ্বারা পরিপূর্ণ। যার ফলে সমস্ত বড় জাহাজকে সুনির্দিষ্ট এই ১০ কিলোমিটার জায়গার মাঝ দিয়ে চলাচল করতে হয়। নতুবা জোরালো সম্ভাবনা থাকে যে, জাহাজে ইরানিদের আক্রমণ করার দরকার হবে না। বরঞ্চ হরমুজ প্রণালি নিজেই জাহাজকে হজম করে নিবে। আর, আলোচ্য ১০ কিলোমিটার মহাসড়কটি মূলত লারাক আইল্যাণ্ডের কাছ ঘেঁষে ওমানের পানিসীমার কাছ দিয়ে চলে গিয়েছে। সুতরাং, বলাইবাহুল্য যে, পরিস্থিতি আসলে সেখানে কেমন।


তারপর, লারাকের ঠিক পেছনে, ইরানের উপকূলের বেশ কাছে আরেকটি আইল্যাণ্ড রয়েছে। যাকে হরমুজ আইল্যাণ্ড বলে ডাকা হয়ে থাকে। ইরান এখানে সুরক্ষিত টানেল নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে। যেখানে ওদের Fast Attack Craft এর বহর অবস্থান করে। প্রণালিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় থাকা যেকোনো নেভাল ফ্লিটকে অগণিত ক্ষুদ্রাকার নৌ-যান ব্যবহার করে সরাসরি দখল বা আঘাত করার চেষ্টামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এই ঘাঁটির দায়িত্ব। যার অবস্থান 5th Naval Region (Forward) এর উত্তর-পূর্বাংশে।


এরপর সামরিক অঞ্চলটির ঠিক দক্ষিণাংশ ঘেঁষে যে ঘাঁটির অবস্থান, সেটি হলো এখানকার লজিস্টিক্স পয়েন্ট ও লিসেনিং স্টেশন। হাঞ্জাম আইল্যাণ্ড নামে চিহ্নিত যে স্থান থেকে প্রণালির সমস্ত কমিঊনিকেশন মনিটর করা হয়। যার পাশাপাশি প্রণালিতে চলমান ছোট্ট আকৃতির টহল নৌ-যানকে রিফিঊয়েল করা আলোচ্য ঘাঁটির দায়িত্বের মাঝে পড়ে।


তারপর এখান হতে প্রণালির আরো গভীরে যাওয়া হলে আমরা তান্ব দ্বীপপুঞ্জ নামের দু'টি দ্বীপ ও আবু মুসা আইল্যাণ্ডকে দেখতে পাব। তান্ব আল-কুবরা যেখানে অ্যারোড্রোম ও বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার দ্বারা সজ্জিত। তান্ব আস-সুগরা সেখানে আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার স্টেশন সহ বিভিন্ন সেন্সর পরিচালনা করে। আর, ঠিক তার পরেই আমরা পাই আবু মুসা আইল্যাণ্ডকে।


আবু মুসার ভূগর্ভস্থ যে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেটি মূলত Response Group 112 (QRF-M) এর আবাস। লং রেঞ্জ মিসাইল ও Fast Attack Craft দ্বারা সজ্জিত Response Group 112 এর দায়িত্ব হলো লারাকের পূর্বোল্লিখিত শিপিং লেনে শত্রুর নেভাল ফ্লিটের আনাগোনা দৃশ্যমান হলে নিজস্ব পরিকল্পনা অনুসারে আইল্যাণ্ড হতে খোলা সাগরে বেরিয়ে আসা। পাশাপাশি, আইল্যাণ্ডের মাউন্টেন কমপ্লেক্সে অপেক্ষমান TEL গুলোকে বের করে মিসাইল লঞ্চ আরম্ভ করা।


আবু মুসা আইল্যাণ্ডের মাটির নিচে Sub-Terranean Missile City রয়েছে। যেখানে মূলত সমস্ত গ্রাঊণ্ড বেজড লঞ্চার অবস্থান করে। পাশাপাশি আইল্যাণ্ডটি Integrated Air Defense (IAD) দ্বারা রক্ষিত। যার সর্বোচ্চ রেঞ্জ ১০৫ কিলোমিটার বলে অনুমান করা হয়। আর, দ্বীপের ওপরে অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যাণ্ডিং তৎপরতা প্রতিহত করতে 81 Marine Brigade, IRGCN এর একটি ফর্মেশন এখানে অবস্থান করে থাকে।


আমাদের আলোচিত সামরিক অঞ্চলটির নাম হলো Qeshm Island। যার অধীনে আবু মুসাকে বলা হয় পারস্য উপসাগরে ইরানের হৃদস্পন্দন। ক্বেশম, আবু মুসা এবং আলোচিত অন্যান্য সকল আইল্যাণ্ডের সামরিক ফর্মেশন সম্মিলিতভাবে পারস্য উপসাগরে সামরিক ও বেসামরিক জাহাজ আগমন-বহির্গমনের ওপর হস্তক্ষেপের একটি অন্যরকম সক্ষমতার প্রতীক। এবং এসমস্ত ঘাঁটি প্রণালিতে একলা নয়। বরঞ্চ, এদের কাছাকাছি আগমনের পূর্বে সমস্ত ফ্লিটকে গালফ অব ওমানের ওপরে শ্যেণদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা মাকরান রেঞ্জের দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থানরত রেভলিঊশনারি গার্ড কর্পসের ফার্স্ট নেভাল রিজিয়নের সেন্সর ও লঞ্চারের মনিটরিংয়ের আওতাভুক্ত হয়ে আসতে হয়। মাকরানের লঞ্চার ও তারপর ক্বেশমের আইল্যাণ্ড চেইনের কারণে তাই যেকোনো নেভাল ফ্লিটের জন্য পারস্য উপসাগরে ঢোকা হয়তো সহজ, কিন্তু, তারপর বের হতে পারাটা অত্যন্ত দূষ্কর।


                  (অবজেক্টিভ আয়রনওয়ার্কস)


এমতাবস্থায় আমেরিকার জন্য এসমস্ত দূর্গ সমতূল্য মিলিটারি আইল্যাণ্ড চেইনকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি খার্গে মেরিন ল্যাণ্ডিং করানোটা যৌক্তিক কোনো চিন্তার মাঝে পড়ে বলে মনে হয়না। ত্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রূপের সাথে আমরা যে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইঊনিটকে বর্তমানে এদিকে দ্রুততার সাথে আসতে দেখছি, সেখান থেকেও আমরা এমনটাই ইঙ্গিত পাই। 31 MEU হিসাবে চিহ্নিত আলোচ্য ইঊনিট এরকম ছোট উপকূলীয় দ্বীপ বা fortified coastal position দখলের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। জাপানের ওকিনাওয়ায় মোতায়েন যে ইঊনিটের দায়িত্ব ছিল চীনের সাথে একটি সরাসরি সংঘাতের সময়ে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে গড়ে ওঠা চায়নিজ মিলিটারি আইল্যাণ্ড সমূহের ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করা। সমগ্র U.S. Marine Corps এর মাঝে এটিই একমাত্র মেরিন এক্সপিডিশনারি ইঊনিট, যাদের ব্যাটালিয়ন ল্যাণ্ডিং টিমের মাঝে স্মল বোট অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে। সহজ ভাষায়, ইঊনিটটি হরমুজ প্রণালির আলোচিত দ্বীপ সমূহকে দখলের বিষয়ে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন।


ব্যাটালিয়ন ল্যাণ্ডিং টিমের প্রশ্নে আসায় আরো বলে রাখা দরকার যে, এরকম একটি ইঊনিটে যদিও ২,৫০০ মেরিন থাকে, কিন্তু, সেখানে সত্যিকার অর্থে যুদ্ধে সরাসরি গানফাইট আরম্ভ করার ও তারপর দখলকৃত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো পার্সোনেল থাকে তার অর্ধেক। সংখ্যাটি হলো আনুমানিক ১,২০০ জন। যাদের ফর্মেশনকে Battalion Landing Team (BLT) বলা হয়। এরা হলো অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রূপের Ground Combat Element (GCE)।


এখন আমাদের প্রশ্ন হলো, তাহলে এত ছোট্ট একটি মিলিটারি ফর্মেশন কিভাবে ফিফথ নেভাল রিজিয়নের (ফরওয়ার্ড) অন্তর্গত এতগুলো আইল্যাণ্ড দখলে নিবে! এর জন্য আমাদের জানতে হবে যে, চীনের সাথে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি হলে 31 MEU কিভাবে এতখানি ক্ষুদ্র ইঊনিট নিয়ে Rapid Response পরিচালনার প্রস্তুতি রেখেছিল।


প্রশ্নটির উত্তর হলো, integration with allied nations maritime and ground forces। অর্থাৎ, আলোচ্য মেরিন এক্সপিডিশনারি ইঊনিট নিজে একক পর্যায়ে ক্ষুদ্র হলেও, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এটির দায়িত্ব হলো মিত্রশক্তির নৌ ও সেনাশক্তির সাথে মিলে যাওয়া। যেমন, দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে এর মিত্ররা ছিল Japan Ground Self-Defense Force (JGSDF), Armed Forces of the Philippines (AFP), Australian Defence Force (ADF) সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আরো কিছু দেশের সামরিক বাহিনী। যারা যুদ্ধকালীন পরিবেশে মার্কিনীদের প্রয়োজনীয় সেনা সহায়তা দিয়ে সহযোগিতা করতো।


০১|

তাহলে, মধ্যপ্রাচ্যে এমনটি কিভাবে হতে পারে! প্রশ্নটি যখন এমন হয়, তখনই চলে আসে আমাদের উপরোক্ত দ্বীপগুলোর সীমানার অধিকার বিষয়ক বিতর্ক। আমাদের অনেকের হয়তো অজানা যে, United Arab Emirates (UAE) এর সাথে ইরানের আবু মুসা ও তান্ব দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে শক্তিশালী টানা-পোড়েন রয়েছে। ওরা আলোচ্য দ্বীপ গুলোকে ইরানের হাতে দখলকৃত ভূখণ্ড হিসাবে বিবেচনা করে থাকে। এবং অত্র অঞ্চলে UAE Presidential Guard এর মাঝে একটি Battalion Landing Team সমতূল্য শক্তির ফর্মেশন বিদ্যমান রয়েছে। যাদেরকে মেরিন কর্পসের পক্ষ হতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেদের সতীর্থ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যাদের সাথে আমেরিকান মেরিনরা নিয়মিত অ্যাম্ফিবিয়াস অপারেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও মহড়া করে আসছে। আর, আমরা জানি যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আসলে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে কাজ করার বিষয়ে তেমন একটা চক্ষুলজ্জা নাই।


০২|

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে মধ্যপ্রাচ্যে 31 MEU এর সহযোগী দ্বিতীয় বাহিনী হতে পারে Royal Saudi Marine Forces (RSMF)। যাদের সাথে আমেরিকান মেরিনরা পারস্য উপসাগরে দীর্ঘকাল যাবত অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যাণ্ডিং অপারেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং মহড়া পরিচালনা করে আসছে। পারস্য উপসাগরের কারান ও কারঈয়ান আইল্যাণ্ডের মতো স্থানগুলোয় মার্কিনীদের সাথে দীর্ঘকাল যাবত মহড়া চালিয়েছে ওরা। পাশাপাশি, ২০২৪ সালে Excercise Native Fury চলাকালীন ওরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী ও মার্কিনী মেরিনদের সাথে একত্রে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিল।


০৩|

Royal Marines। বৃটিশ মিলিটারির এই বিশেষায়িত ফর্মেশনটি দক্ষতা ও সক্ষমতার দিক থেকে মার্কিনীদের সমতূল্য। এমনকি মার্কিনীদের তুলনায় অনেকখানি উর্ধ্বে। United Kingdom Commando Force (UKCF) ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের আদেশের অপেক্ষায় High-readiness alert এর ওপরে আছে। যাদের মোতায়েন বিষয়ক সমস্ত পরিকল্পনা চলমান রয়েছে বলে অনুমান করা যাচ্ছে।


০৪|

Troupes de Marine, Marine nationale। ফ্রেঞ্চ নেভি মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী ফ্লিট মোতায়েন করেছে। যার মাঝে শার্ল দি গল ও দু'টি Amphibious assault ship হলো অন্যতম। হরমুজ প্রণালিতে অভিযান শুরু হলে যাদের সেখানে অংশ নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইরাকে ওদের সেনা নিহত হওয়ার পর সম্ভাবনাটি আরো শক্তিশালী হয়েছে।


উপরোক্ত Coalition এর সম্মিলিত শক্তি সেক্ষেত্রে তখন আমরা ৩,০০০ এর ঘর স্পর্শ করতে দেখি। যারা কিনা সরাসরি ইরানের ফিফথ নেভাল রিজিয়ন (ফরওয়ার্ড) দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আরম্ভ হওয়া কোনো অভিযানের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা যায়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি প্রাথমিক পর্যায়ের অভিযানের জন্য নির্ধারিত সামরিক শক্তি। এরপর এগুলোকে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আলাদা ও আরো শক্তিশালী বাহিনীর দরকার হবে।


হরমুজ প্রণালির বুক চিরে পারস্য উপসাগরের স্রোত স্পর্শ করতে হলে ফিফথ নেভাল রিজিয়ন (ফরওয়ার্ড) হলো তার সিংহদ্বার। খার্গ আইল্যাণ্ড দখল নিয়ে যদিও আমাদের উদ্বেগের সীমা নাই, তবে, খার্গে কোনো অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যাণ্ডিংয়ের কারণ আপাতদৃষ্টিতে আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। খার্গ বরঞ্চ Donald J. Trump এর পক্ষ হতে ইরানের সরকার ও জনতার ওপর চাপপ্রয়োগের একটি উপায় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে আমার ধারণা। আমেরিকা চাইছে না অন্যান্য সমস্ত উপায় চেষ্টা না করে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করতে। যার জন্য খার্গের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হলেও জ্বালানি বিষয়ক সমস্ত স্থাপনা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


এখন ত্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রূপের জন্য ব্যাটলফিল্ড প্রিপারেশন চলছে। যেখানে ফিফথ নেভাল রিজিয়নকে Isolate and Degrade করার তৎপরতা চালাচ্ছে ওরা। ওদের লক্ষ্য মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরান হতে ছিনিয়ে নেওয়া। বৃহত্তর ইরানে ভবিষ্যৎ সময়ে স্বাধীনভাবে তৎপরতা চালাতে হলে যার কোনো বিকল্প নাই। সুতরাং, আমাদের নজর ভুল জায়গাতে রয়েছে। এটি আমার মতামত।


খার্গের আরেকটি ভূমিকা হলো, এটি এখন সকলের জন্য মনোযোগ সরাবার উৎসে পরিণত হয়েছে। অথচ এটি সাধারণ চিন্তার বিষয় যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে সরাসরি সংঘাতের জন্য সেনা মোতায়েন করে, তাহলে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু ওপরের দ্বীপগুলো হওয়ার কথা। খার্গ নয়। কারণ, ওগুলোর নিয়ন্ত্রণ না নিয়ে খার্গের দিকে যাওয়া বিপদজনক। তার পাশাপাশি অত্র অঞ্চলে আমেরিকার জন্য চাবাহারের মতো আরো কিছু Target রয়েছে। তবে, ওগুলোর দিকে পূর্ণ-শক্তির সামরিক অভিযান ছাড়া মনে হয় না আমেরিকা হাত বাড়াবে।


সবশেষে বলতে হয় যে, ফিফথ নেভাল রিজিয়নকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য, বিশেষ করে ক্বেশম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য পরিচালিত যেকোনো অভিযানের আকার ওপরের আলোচনায় উঠে আসা মেরিন এক্সপিডিশনারি ফোর্সের তুলনায় অনেক বড় হবে বলে অনুমান করা যায়। ফলে, এটি সহসাই হতে চলেছে এমনটি মনে করার কারণ নাই। কারণ, মাকরান থেকে শিরাজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলে ইরানের সামরিক বাহিনীর বহু ফর্মেশন শক্তিশালী মিসাইল ও ড্রোনে সজ্জিত হয়ে অবস্থান করছে। যাদের নিষ্ক্রিয় না করা গেলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল চালু করা খুবই দূস্কর। ফলে এসমস্ত Key terrain নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষায়িত তৎপরতা চালনা সহ অন্যান্য নানান আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড আলোচ্য অভিযানকে একটি Large Scale Combat Operation (LSCO) এ অতি সহজেই রূপান্তর করতে পারে। আর, সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক বাহিনী নিয়ে আইল্যাণ্ড সমূহের ওপর অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যাণ্ডিং করা হলে যুদ্ধ পুরোপুরি আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ ধারণ করবে। এখন দেখার বিষয় যে, আসলে বিষয়টি কি হতে চলেছে।


ধন্যবাদ।

Comments

Popular posts from this blog

 রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু Kaler Kantho এর কাছে গেলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওনার বঙ্গভবনে অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। উনি বলেন যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ওনাকে তখন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন। "সশস্ত্র বাহিনী আমাকে স্রেফ একটি কথা বলেছিল। তা হলো, মহামান্য! আপনি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিকনায়ক! আপনার পরাজয়ের অর্থ সমগ্র সামরিক বাহিনীর পরাজয়। আর আমরা যেকোনো মূল্যে সেটি রুখে দেওয়ার চেষ্টা করব! শেষে ওনারা তাই করেছেন। ওনারা বিভিন্ন সময়ে এসেছেন, আমাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন।" অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একবার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে ওনার পদ হতে সরাতে চেয়েছিল। তখন Chief of Army Staff, Chief of Naval Staff ও Chief of Air Staff তথা বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধান রুখে দাঁড়ান ও Muhammad Yunus কে বলেন যে, "আমরা সংবিধানের বিপরীত কোনো কার্যকলাপ সংঘটিত হতে দিব না!" যখন বঙ্গভবনের সামনে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের মানুষ রাষ্ট্রপতির পতনের দাবি নিয়ে জড়ো হয়েছিল, তখনো সামরিক বাহিনী উপরোক্ত অবস্থান ধরে রাখে। Party-BNP এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উক্ত সময়টিতে বিনা দ্বিধায় রাষ্ট্রপতির পাশে ছিলেন মর্মেও জা...
 [সতর্ক অবস্থানে ও সম্মানজনক পরিবেশে অডিও চালুর অনুরোধ রাখা হলো] "Will you invoke ba'al and forsake The Best of Artisans!" দুনিয়ার বুকে Jeffrey Epstein ও ওর বন্ধুদের শত্রুতা কেন ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, আফ্রিকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, কাশ্মির, আরাকান, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, উইঘুরে স্রেফ মুসলমানদের সাথে তাঁর জবাব এখানেই আছে। For context, Epstein ছিল বা'আলের পূজারি। অন্তত তেমনটিই বর্তমানে বিশ্লেষকদের ধারণা। আর, নিচে কুরআনুল কারিমের আয়াত।  "তোমরা কি বা'আলকে ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে!" মেক্সিকোয় একজন বিচারক এক নারী, শিশু, মানব পাচারকারীর বিচার করছিলেন। একজন গুপ্তঘাতক তাকে গুলি করে। জানা যায় যে, শুটার আমেরিকান। এর আগে কেসের দায়িত্বে থাকা Mexican Intelligence Community এর অফিসার ও তার পার্টনারকে ০৪ বার গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তার পার্টনার সেসময় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ০২ জন মার্কিন ইন্টেলিজেন্স অপারেটিভকে হত্যা এবং ০৫ জনকে আহত করেন। এই দু'জন মেক্সিকান ইন্টেলিজেন্স অফিসারকে তখন মেক্সিকোর ইঊ.এস দূতাবাসের ডিপ্লোম্যাটিক প্লেট ...
 ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীকে পাকিস্তান সরকার ৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে United States Intelligence Community (USIC) এর কাছে বিক্রি করেছিল Inter Services Intelligence (ISI)। জানিয়েছেন ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীর আইনজীবী। পাকিস্তানি ইন্টেলিজেন্স কমিঊনিটির জন্য অর্থের লোভে নিরপরাধ পাকিস্তানি নাগরিকদের বন্দি করে বিক্রি করা অবশ্য মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। ISI এর অফিসারদের CIA এর কাছে মানুষ বিক্রি করার এই স্বভাব এতখানি ভয়ানক পৈশাচিক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, খোদ CIA একটা সময়ে ইসলামাবাদকে জানায় যে, এভাবে আর কাউকে বন্দি করা হলে আমরা অর্থ পরিশোধ করতে পারব না। এখন থেকে তোমাদের কাছে কেউ থাকলে তোমরা কোনো বিনিময় ছাড়া তাঁকে আমাদের হাতে তুলে দিবে। কারণ, CIA দেখছিল যে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে ওদের হাতে যাদেরকে তুলে দিচ্ছে, তাঁদের বড় একাংশ একেবারেই সাধারণ মানুষ। ফলে, CIA বুঝতে পারে যে, ISI অফিসাররা মূলত আমেরিকানদের পরিশোধিত টাকার লোভে পড়ে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে ওদের হাতে উঠিয়ে দিচ্ছে। ওদের ধোঁকা দিয়ে সোজা কথায় পুরোপুরি নিরীহ, অসহায় মানুষদের নির্যাতন করিয়ে Scam করছে। ফলে, আমেরিকানরা পাকিস্তানিদ...