সাঊদি আরাবিয়া, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশে কেন ইরান হামলা করবে তা নিয়ে জনমনে বিরাট প্রশ্ন। নিচের লেখাটি আমি ০৯ই অক্টোবর, ২০২৩ সালে ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে লিখেছিলাম। আজ আবার পাবলিশ করলাম। পড়ুন ও অনুধাবন করুন। এরাই ফিলিস্তিনিদের শত্রু। এরাই মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ ও সমগ্র মানবজাতির শত্রু। লেখাটি শুরু হচ্ছে।
গতকাল থেকে অনেকে আমাকে প্রশ্ন করছেন, অনেকে আবার ভুয়া লিংক ও আর্টিকেল নিয়ে আসছেন এই মর্মে যে, সৌদি আরব, তুরস্ক ইত্যাদি রাষ্ট্র এই কনফ্লিক্টে বহু অবদান রাখছে। আমি নিচে একটা লিস্ট তৈরী করেছি, যেখানে সেসমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো গাজার ওপর মার্কিন বোমারু বিমানের উড্ডয়নের কাজে ব্যবহার হতে পারে। যদি চূড়ান্ত পর্যায়ে মার্কিনীরা সরাসরি জড়িত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই বসে। নতুবা এসমস্ত ঘাঁটি ব্যবহার করে আপাতত ফিলিস্তিনে অন্য কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের সাহায্য পৌঁছানো থেকে বাঁধা দিয়েই ক্ষান্ত থাকবে পেন্টাগন।
☄️ কিং আব্দুল আজিজ এয়ারবেস, সৌদি আরব।
☄️ কিং ফাহাদ এয়ারবেস, দাম্মাম, সৌদি আরব।
☄️ কিং খালিদ এয়ারবেস, খামিস মুশাইয়্যাত, সৌদি আরব।
☄️ রিয়াদ এয়ারবেস, রিয়াদ, সৌদি আরব।
☄️ প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস, আল-খারজ, সৌদি আরব।
☄️ নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি (𝗡𝗦𝗔-𝗕𝗮𝗵𝗿𝗮𝗶𝗻), মানামা, বাহরাইন।
𝗡𝗦𝗔-𝗕𝗮𝗵𝗿𝗮𝗶𝗻 মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্ট্যাটাস অনুসারে এটা একটা মেইন অপারেটিং বেস এবং মার্কিন নেভির 𝟱𝘁𝗵 𝗙𝗹𝗲𝗲𝘁 তথা পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর।
☄️ নেভাল রিজিয়নাল কন্ট্রাক্টিং সেন্টার নেপলস ডিটাচমেন্ট, বাহরাইন।
☄️ আল উবায়েদ এয়ারবেস, দোহা, কাতার।
আল-উবায়েদ এয়ারবেস মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (𝗖𝗘𝗡𝗧𝗖𝗢𝗠) এর ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার এবং এয়ারফোর্স সেন্ট্রাল কমান্ডের মূল সদরদপ্তর। এটা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটিও বটে। যেখানে প্রায় ১০,০০০ মার্কিন সেনাসদস্য অবস্থান করেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের সমগ্র সামরিক বাহিনী মার্কিন 𝗖𝗘𝗡𝗧𝗖𝗢𝗠 এর অংশ। সুতরাং, মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রতিটি ঘাঁটি আসলে ইসরায়েলেরও ঘাঁটি। যাইহোক, কাতারের এই এয়ারবেসে বৃটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের ইউনিটও অবস্থান করে।
☄️ আল-মিনহাদ এয়ারবেস, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
☄️ আল-জাফরা এয়ারবেস, আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এই ঘাঁটি মার্কিন এয়ার কমব্যাট কমান্ডের অধীনস্থ একটা ঘাঁটি। যেখানে অত্যাধুনিক 𝗙-𝟯𝟱 ফাইটারের ন্যায় এয়ারক্রাফট স্টেশনড রয়েছে। এছাড়াও, এই ঘাঁটিতে ফ্রেঞ্চ এয়ার & স্পেস ফোর্সের একটা ইউনিট রাফালে ও মিরেজ জেট ফাইটার এবং অন্যান্য বিমান সহ অবস্থান করে। এই ঘাঁটি সব সমগ্র দেশে সর্বমোট মার্কিন পার্সোনেলের সংখ্যা আনুমানিক ৫,০০০ জন।
☄️ ক্যাম্প আরিফজান আর্মি বেস, কুয়েত।
☄️ ক্যাম্প দোহা আর্মি বেস, কুয়েত।
☄️ ক্যাম্প ভার্জিনিয়া আর্মি বেস, আল জাহরা, কুয়েত।
☄️ ক্যাম্প বুয়েরিং, উদারি, কুয়েত।
☄️ ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট, কুয়েত।
☄️ ক্যাম্প নিউইয়র্ক আর্মি বেস, কুয়েত।
☄️ ক্যাম্প স্পিয়ারহেড আর্মি বেস, শু'য়াইবা, কুয়েত।
☄️ আলি আল সালেম এয়ারবেস, কুয়েত সিটি, কুয়েত।
☄️ মুয়াফফাক্ব সালতি এয়ারবেস - আজরাক্ব, জর্দান।
এটা জর্দানে মার্কিন ড্রোন সমূহের ঘাঁটি। এছাড়াও জর্দানে প্রায় ২,৯৩৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য অবস্থান করেন।
☄️ রয়্যাল এয়ারফোর্স ওমান - বেস সুমরাইত, ওমান।
ওমানের এই ঘাঁটিটা মার্কিন ও বৃটিশ জঙ্গিবিমানের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সও বিভিন্ন সময়ে এই ঘাঁটি ব্যবহার করে থাকে।
☄️ রয়্যাল এয়ারফোর্স ওমান - বেস মুসান্না, ওমান।
এই ঘাঁটি বৃটিশ রয়্যাল নেভির এভিয়েশন উইং ব্যবহার করে।
☄️ ইনসারলিক এয়ারবেস, আদানা, তুরস্ক।
তুরস্কের এই ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর নিউক্লিয়ার বোমা এবং নানানরকমের অত্যাধুনিক ড্রোন ও যুদ্ধবিমান স্টেশনড রয়েছে।
সুতরাং, দেখতেই পাচ্ছেন যে, ফিলিস্তিনের বড় শত্রু কারা। আমার এই লিস্ট হলো প্রকাশ্যে যেসব ঘাঁটি মার্কিন, বৃটিশ ও ফ্রেঞ্চদের নিয়ন্ত্রণে সেগুলোর। এর বাইরে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ও 𝗝𝗦𝗢𝗖 এসব ঘাঁটির ভেতরে এবং বাইরে গোপনে অসংখ্য ব্ল্যাক সাইট অপারেট করে। বেশিরভাগই সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারের সম্মতিতে। যেখানে বন্দিদের নির্যাতন করা হয় ও মার্কিন আর বৃটিশ স্পেশাল ফোর্সেস পার্সোনেলদের স্টেশনড রাখা হয়। এসবের পর একটা দেশ ফিলিস্তিনকে যতোই সাহায্য করুক, নিজের দেশ ফিলিস্তিনিদের দিয়ে দিলেও সেটা যথেষ্ট হবে না। সুতরাং, এসব ভুয়া সাহায্য সহযোগিতার গল্প বাদ দিন। আরবের মাটি আরবদের নাই।
ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment