United States of America যখন যুদ্ধে যায়, তখন শত্রুর ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে আমেরিকার কিছু প্যাটার্ন আছে। যা সাধারণভাবে ধারাবাহিকতার সাথে অনুসরণ করা হয়।
সর্বপ্রথম যুদ্ধে যায় Central Intelligence Agency (CIA) সহ বৃহত্তর United States Intelligence Community (USIC)। ওদের দূতাবাস ভিত্তিক অফিসিয়াল কাভারে থাকা অপারেশন্স অফিসাররা হয় যেখানে প্রথম সারির সৈনিক। তেহরানে বা ইরানে আমেরিকার কোনো দূতাবাস নাই। সুতরাং, এটি ইরানের ক্ষেত্রে ওভাবে প্রযোজ্য বলে আমার মনে হয় না।
তারপর দ্বিতীয় সারিতে থাকে NOC অপারেটিভ। যার পূর্ণরূপ হলো Non-official cover। গুপ্তচরবৃত্তি বলতে আমরা যা বুঝি, NOC অপারেটিভরা ঠিক তাই করে থাকে। শত্রু ভূখণ্ডে ওদের আগমন নানান উপায়ে হয়ে থাকে। যার মাঝে অন্যতম হলো মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, চিকিৎসা বিষয়ক কর্মসূচির সাথে জড়িত স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবি। সাধারণত এই ধাঁচের প্রত্যেকের নকল পরিচয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাঊন্টার ইন্টেলিজেন্স অপারেশনের মুখে টিকে থাকবে, এটি নিশ্চিত করার জন্য অপারেশনের গুরুত্ব অনুসারে তার পরিচয়ের পেছনে সম্পূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলা হয়।
যেমন, আলোচ্য ব্যক্তি যদি চিকিৎসা কর্মসূচির অংশ হিসাবে গমন করে, তাহলে তাকে কেন্দ্র করে বা তার অপারেশনকে কেন্দ্র করে একটি চিকিৎসা বিষয়ক Non-government organization (NGO) খাড়া করা হয়। যদিও, আমেরিকা বা ইসরায়েলের জন্য শূণ্য থেকে এগুলো করার দরকার হয় না। বরঞ্চ, আজকের দিনের বিভিন্ন সুপরিচিত সংস্থা হয়তোবা একদা এমন কোনো অপারেশনের জন্য দণ্ডায়মান হয়েছিল। যা পরবর্তীতে সারা দুনিয়াতে পরিচিতি লাভ করেছে।
ওদের অনেক পরে, হয়তো কয়েক যুগ পরে আরেক ধাঁচের অপারেশন্স অফিসাররা ঐ ভূখণ্ডে আগমন করে। এদেরকে বলা হয় অপারেটর। অথবা, Para-military Operations Officer (PMOO)। যারা দীর্ঘকাল যাবত সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন কমাণ্ডো ইঊনিটে কাজ করেছে। কেউ হয়তো ছিল Army Special Forces, 75th Ranger Regiment, Force Reconnaissance, Marine Special Operations Command (MARSOC), Navy SEAL কিংবা Joint Special Operations Command (JSOC)। তারপর ওরা ওসব জায়গা থেকে অবসরে গিয়েছে। কারো হয়তো পূর্ব হতে ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী আছে, কেউ আবার সামরিক বাহিনী থেকে অবসরে গিয়ে ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে। অনেকের হয়তো কয়েকটি ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী আছে। ওদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত একাংশের সাথে একটি বিশেষ সংগঠন হতে যোগাযোগ করা হয়।
সংগঠনটি হলো Special Operations Group। যারা Special Activities Center, Directorate of Operations, Central Intelligence Agency (CIA) এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যেখানে Special Activities Center (SAC) হলো আমেরিকার পক্ষ থেকে বহির্বিশ্বে Covert Action পরিচালনা বিষয়ক মূল কর্ণধার। যার অধীনে স্পেশাল অপারেশন্স গ্রূপ Ground Branch, Maritime Branch ও Air Branch নামের ০৩টি শাখা পরিচালনা করে। SAC এর অবশ্য আরেকটি ভিন্ন শাখা রয়েছে। যারা সাধারণ মানুষের মাঝে Political Action Group (PAG) নামে পরিচিত। রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক, আদর্শিক বিষয়ের মতো বিষয়ে বহির্বিশ্বে Covert Action পরিচালনা করা যাদের মূল দায়িত্ব।
Special Activities Center শত্রুর বিরুদ্ধে সাধারণত সার্বক্ষনিক তৎপর থাকার চেষ্টা করে। তবে, ওদের ব্যস্ততা বিশেষ করে আরম্ভ হয় তখন, যখন কোথাও আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। ঘনিয়ে আসা বলতে যেখানে আনুমানিক ০২ বছর বাকি রয়েছে বলে মনে করা যায়। ওদের তৎপরতার শেষে অঞ্চল ও কৌশল ভেদে নানান স্থানে নানান রকমের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোথাও শুরু হয় আন্দোলন, কোথাও পূর্ব হতে বিরাজমান বিচ্ছিন্নতাবাদী জাতিগোষ্ঠী নতুন শক্তিতে মাথাচাড়া দিতে থাকে, কোথাও সামরিক অভ্যূ্ত্থান শুরু হয়। কোথাও দেখা দেয় গৃহযুদ্ধের শংকা।
সময় আরো ঘনিয়ে এলে তখন মাত্রা আরেকটু হিংস্র ধাঁচের ইঊনিটের দিকে উন্নিত হয়। দৃশ্যপটে উপস্থিত হয় Intelligence Support Activity (ISA)। যাদের অনুসরণ করে তারপর আগমন হয় G Squadron, 1st Special Forces Operational Detachment - Delta ও Black Squadron, Naval Special Warfare Development Group এর। এদের আগমনের পর ধরে নেওয়া যায় যে, সময় শেষ হয়েছে।
Delta Force ও SEAL Team SiX এর নিয়মিত সমস্ত স্কোয়াড্রন তখন আলোচ্য অঞ্চল কেন্দ্রিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ শুরু করে ফেলে। প্রশিক্ষণের তোড়জোড় শুরু হয় Army Special Forces এর নির্দিষ্ট গ্রূপ সহ ঐ অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে ওঠা অন্যান্য সকল নিয়মিত কমাণ্ডো ফর্মেশনের মাঝেও।
আক্রমণের কিছুদিন পূর্ব হতে United States Air Force ও U.S. Navy এর ডেপ্লয়মেন্ট আরম্ভ হয়। আক্রমণ শুরুর পূর্বে সীমিত আকারে ও মূল বিমান আক্রমণ শুরুর পর বৃহৎ আকারে Joint Special Operations Command, 75th Ranger Regiment ও অন্যান্য বিশেষায়িত ফর্মেশন ফরওয়ার্ড পজিশন গ্রহণ করে।
বৃহত্তর নিয়মিত বাহিনীর মাঝে তৎপরতা তখন সবেমাত্র আরম্ভ হচ্ছে। আমরা পত্রিকায় যার খবর পাই। এই সময়টাতে বিভিন্ন ইঊনিটের হেডকোয়ার্টার্স থিয়েটারে আগমন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচক্ষে ধারণা পাওয়ার জন্য ও তদনুযায়ী পেছনে থেকে যাওয়া নিজেদের মূল বাহিনীর ডেপ্লয়মেন্টের প্রস্তুতি পরিচালনার জন্য।
গ্রাঊণ্ড অপারেশন যখন শুরু হয়, তখন একটা পর্যায় পর্যন্ত অপারেশন স্পেশাল অপারেশন্স কমাণ্ডের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট ও Task Force দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। সাধারণ মানুষ এই সময়টিতেও স্রেফ বিমান হামলার দৃশ্য দেখতে পান। যেমনটি বর্তমানে আমরা ইরানের মাটিতে দেখছি। যেখানে পরিচালিত হওয়া বিমান হামলার অনেকাংশের পেছনে কোনো গ্রাঊণ্ড ইঊনিটের ভূমিকা রয়েছে।
এসব চলাকালীন সময়ের মাঝে থিয়েটারে নিয়মিত বাহিনীর সমস্ত পজিশনিং সমাপ্ত হয়। অতঃপর, অপারেশনের আকার আচমকা বৃদ্ধি পায় এবং কমাণ্ড নিয়মিত বাহিনীর কমাণ্ডিং জেনারেলের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এখান হতে শুরু হয় মূল সামরিক অভিযান।
ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment