Skip to main content

 সময় তখন ১৩০০ আওয়ার্স পেরিয়েছে। খুজেস্তানের তপ্ত সমতল মরু অঞ্চলের আকাশ চিরে ঝড়ের গতিতে ধেয়ে চলছে ইঊনাইটেড স্টেটস এয়ারফোর্সের একটি এফ_ফিফটিন জঙ্গিবিমান। আচমকা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ সমগ্র বিমানকে কাঁপিয়ে দিলো। সাথে সাথে ককপিটে চালু হয়ে গেলো Master Caution অ্যালার্ম। পাইলট ও তার সঙ্গী ওয়েপন সিস্টেমস অফিসারের কানে ততক্ষণে যুদ্ধবিমানের Voice Warning System (VWS) এর পক্ষ হতে ক্ষয়-ক্ষতি সংক্রান্ত সতর্কবার্তা ধ্বনিত হতে শুরু করেছে!

এফ_ফিফটিনটির চালক, মার্কিন বিমান বাহিনীর বৈমানিকদের কমিঊনিটিতে যারা ঈগল ড্রাইভার বলে পরিচিত, ততক্ষণে পরিস্থিতির হিসাব কষতে শুরু করেছেন। শেষপর্যন্ত দেখা গেলো যে, বিমানের বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় এখান থেকে তিনি ও তার সহকর্মী যদি বিমান পরিত্যাগ করেন, তাহলে তারা প্যারাশুট নিয়ে যেখানে অবতরণ করবেন ওখানে চতুর্দিকে ধুঁ ধুঁ সমতল বালিয়াড়ি। যেখানকার মাটিতে নামার সাথে সাথে ইরানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ওনাদের অনায়াসে তুলে নিয়ে বন্দি করে ফেলবে। সুতরাং, আকাশে ভাসমান অবস্থাতেই শুরু হলো তাদের সারভাইভাল, ইভেশন, রেজিস্ট্যান্স অ্যাণ্ড এস্কেপ তৎপরতা!

                               (রিপোর্ট)

ইঊনাইটেড স্টেটস এয়ারফোর্সের পার্সোনেল রিকভারি তৎপরতা ০৫টি মৌলিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। যার আরম্ভ হয় শত্রুসীমার গভীরে ভূপাতিত হতে চলা পাইলট অথবা তার ঊইংম্যান কমাণ্ড সেন্টারকে অবগত করার দ্বারা যে, আমাদের যুদ্ধবিমান / আমাদের সঙ্গী বিমান আঘাত পেয়েছে। আমরা আনুমানিক অমুক স্থানে বিমান পরিত্যাগ তথা Eject করছি। এসময় বিমানটি একলা না হয়ে যদি কোনো ফাইটার ফর্মেশনের অংশ হয়, তাহলে ঊইংম্যান প্যারাশুট সফলভাবে ডেপ্লয় হলো কিনা সেটিও পরখ করে কমাণ্ড সেন্টারকে অবগত করার চেষ্টা করেন।

শত্রুসীমায় ভূপাতিত বিমানের Pilot ও Weapon Systems Officer (WSO) এসময় Isolated Person (IP) হিসাবে চিহ্নিত হন। আর শুটডাঊনকে বলা হয় Isolating event। বিমানটি যদি কোনো ফর্মেশন ব্যতিরেকে একাকী ফ্লাইটে থাকে, তাহলে ভূপাতিত হওয়ার পর বিমানের Pilot ও WSO তাদের এয়ার টাস্কিং অর্ডারের পার্সোনেল রিকভারি অংশে লিখিত বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করে অতিসত্বর ভূমি থেকে নিজেদের অবস্থান কমাণ্ডকে অবগত করার চেষ্টা করেন। এর কোনোটি সম্ভব না হলে কমাণ্ড সেন্টার ইমার্জেন্সি বিকনের স্বয়ংক্রিয় চালু হওয়া অথবা আচমকা রাডার কনট্যাক্ট হারিয়ে যাওয়ার দ্বারা ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়। মার্কিন বিমান বাহিনীর পার্সোনেল রিকভারি তৎপরতার ০৫টি মৌলিক বিষয়ের ০১টি এর দ্বারা সম্পন্ন হয়। যার নাম রিপোর্ট।

                                (লোকেট)

যুদ্ধবিমান বিষয়ক একটি Isolating event সংঘটিত হওয়ার সংবাদ কমাণ্ড সেন্টারে পৌঁছামাত্র কিছু প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়ে যায়। পার্সোনেল রিকভারি সংক্রান্ত যেসকল প্রক্রিয়া ইঊনাইটেড স্টেটস এয়ারফোর্স নিজেদের সকল যুদ্ধ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসাবে বিবেচনা করে। যার দ্বারা ওরা নিজেদের দুনিয়ার অন্যান্য বাহিনী হতে আলাদা হিসাবে তুলে ধরতে সমর্থ হয়।

Isolating event সংঘটনের রিপোর্ট কমাণ্ডে পৌঁছাবার সাথে সাথে অত্র আঞ্চলিক কমাণ্ডের দায়িত্বে থাকা বিমান বাহিনীর এয়ার অপারেশন্স সেন্টারের PRCC (Personnel Recovery Coordination Center) পরিস্থিতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে যারা তাৎক্ষণিক নিজেদের অন্যান্য সকল বাহিনী ও সংস্থাকে JPRC (Joint Personnel Recovery Center) এর মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে জানায়। এসময় শত্রুসীমার অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিপদগ্রস্থদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান যথাশীঘ্রি শণাক্ত করার আদেশ জারির দ্বারা আরম্ভ হয় টাস্কিং।

মার্কিন বিমান বাহিনীর মাঝে Combat Search & Rescue (CSAR) তৎপরতা পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত কমাণ্ডো বাহিনী রয়েছে। যারা Pararescuemen (PJ) ও Combat Rescue Officer (CRO) দের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যার মাঝে PJ 'দের প্রতিকূল পরিবেশে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ইমার্জেন্সি ট্রমা স্পেশালিস্ট হিসাবে গণ্য করা হয়। তারা মূলত এয়ার কমাণ্ডো, যাদেরকে কমাণ্ডো প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ট্রমা মেডিসিনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর, CRO হলেন সেই কমাণ্ডো অফিসার, যিনি তাদের টিমকে কমাণ্ড করা ও টিমের সাথে অন্যসব বাহিনী এবং হায়ার হেডকোয়ার্টার্সের সমন্বয় বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করেন। ফিরে যাচ্ছি টাস্কিং পর্যায়ে।

শত্রুসীমায় বিচ্ছিন্ন ও নিখোঁজ বৈমানিকদের উদ্ধারের জন্য তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রক্রিয়া মহাকাশ হতে আরম্ভ করা হয়। যেখানে মহাকাশে ভাসমান স্পাই, কমিঊনিকেশন ও ইমেজিং স্যাটেলাইটের মতো অ্যাসেট সমূহকে আদেশ দেওয়া হয় শত্রু অঞ্চলের ভেতর হতে তাদের খুঁজে বের করার জন্য। কমব্যাট সার্চ অ্যাণ্ড রেসকিঊ তৎপরতায় সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের Electronic Intelligence বিশেষভাবে মনিটর করা হতে থাকে। আকাশে এয়ারবোর্ন কমাণ্ড অ্যাণ্ড কন্ট্রোল, রিকনাইস্যান্স ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন সাপোর্ট প্লাটফর্মের ঝাঁক ভেসে ওঠে। শুরু হয় Combat Search And Rescue (CSAR)।

অপারেশনের আলোচ্য পর্যায়ে শত্রুসীমায় প্রবেশ করে অপারেশনের দায়িত্বে থাকা CRO 'কে বহনকারী HC-130J সামরিক বিমান। এসময় CRO এর রেডিও কলসাইন হয় Crown। আর ওনাকে বহনকারী বিমান King হিসাবে চিহ্নিত হয়। HC-130J এসময় হয় অপারেশনের Command & Control (C2) প্লাটফর্ম। অনবোর্ড CRO যেখানে Airborne Mission Coordinator (AMC) এর দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি, বিমানটি নিজের সাথে আগমন করা HH-60G অথবা HH-60W কপ্টারের ঝাঁককে আকাশে ভাসমান অবস্থায় রিফিঊয়েল করবার দায়িত্ব পালন করে।

ভারী মেশিনগান অথবা মিনিগান দ্বারা সজ্জিত এসকল হেলিকপ্টার মূলত Pararescuemen দের টিমের ছোট্ট কয়েকটি অংশকে বহনরত অবস্থায় সার্চ পরিচালনা করতে থাকে। অন্যদিকে HC-130J এর মাঝে এসময় CRO এর সাথে টিমের অবশিষ্ট মূল অংশটি অবস্থান করে। যাদের সাথে থাকে বিমানের মাঝে একটি ছোটখাটো ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উপযোগী সরঞ্জাম।

লেখার আলোচ্য পর্যায়ে এসে আমাদের মনে হতে পারে যে, সামান্য এই কয়টি হেলিকপ্টার ও একটিমাত্র বিমানের অপারেশন! তাহলে চলুন, পরিচিত হয়ে আসি আমাদের আলোচ্য তৎপরতার অন্যতম চরিত্র, On-Scene Commander (OSC) এর সাথে। সাধারণত যে ভূমিকায় অধিকাংশ সময়ে আগমন করে A-10 Thunderbolt-II। A-10 ফর্মেশনের লিডার এসময় OSC হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তার ফর্মেশন এসময় হেলিকপ্টারের সামনে থেকে রূট পর্যবেক্ষণ ও ক্লিয়ার করতে করতে অগ্রসর হয়। ওদের পিছু পিছু আগমন করে চপারের ঝাঁক। এদের সংক্ষেপে বলা হয় RESCORT (Rescue Escort)। 

RESCORT এর পাশাপাশি CRO এসময় অত্র অঞ্চলে আরো যেসকল প্লাটফর্মের সাথে সমন্বয় করেন, সেগুলোর মাঝে থাকে MQ-9 ড্রোন। যা সরাসরি আকাশ হতে সার্চ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি থিয়েটার পর্যায়ের নজরদারি ও Battlefield Airborne Communications Node (BACN) এর সুবিধা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয় RQ-4। সাথে থাকতে পারে U-2 স্পাই প্লেনের ফ্লাইট।

এরপর শত্রুর যুদ্ধবিমান হতে সুরক্ষা ও অন্যান্য সহায়তা দানের জন্য আকাশে তোলা হয় Rescue Combat Air Patrol (RESCAP)। যা মূলত F-22, F-35 ও F-15 এর মতো যুদ্ধবিমানের ফর্মেশন। পাশাপাশি আরো থাকে EA-18G কিংবা EC-130H Compass Call। যারা মূলত শত্রুর কমিঊনিকেশন ও রাডারের মতো বস্তুর বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। থিয়েটার পর্যায়ে এসময় অবস্থান করে RC-135 Rivet Joint। আর সম্পূর্ণ তৎপরতার বৃহত্তর পর্যায়ের সমন্বয়ের জন্য আকাশে অবস্থান নেয় E-3 Sentry এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যাণ্ড কন্ট্রোল প্লাটফর্ম। সম্পূর্ণ চিত্রের এই বিশেষায়িত শক্তির সমন্বিত পরিচয় হয় তখন CSAR Task Force।

                              (সাপোর্ট)

এফ_ফিফটিন যুদ্ধবিমানটি হতে পাইলট ও তার সহকর্মী যতক্ষণে বেরিয়ে এসেছেন, ততক্ষণে যুদ্ধবিমান পাড়ি দিয়েছে লম্বা একটি পথ। আকাশে ভাসতে ভাসতে তারা খুজেস্তানের সমতল মরু অঞ্চল ছেড়ে ঢুকে পড়েছেন দূর্গম ও বন্ধুর জাগরোস মাঊন্টেন রেঞ্জের বিপদসংকুল সীমানায়। SERE (Survival, Evasion, Resistance, Escape) প্রশিক্ষণে তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, হাতে সময় ও সুযোগ থাকলে পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা যেন সর্বদা দূর্গম অঞ্চলকে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সুতরাং, কিছুক্ষণের মাঝে তারা আলাদা আলাদা অবস্থানে ভূমিতে নেমে আসলেন। ইমার্জেন্সি বিকন চালু করা হলো। এয়ারবোর্ন হতে শুরু করলো CSAR Task Force। 

CSAR Task Force যখন আকাশে উড্ডয়ন করে তল্লাশির জন্য নির্দিষ্ট আনুমানিক অবস্থানে পৌঁছায়, তখন বিমানগুলি সাধারণত কিছু সার্চ প্যাটার্ন অনুসরণ করে উড়তে থাকে। টাস্ক ফোর্সের হাতে থাকা তথ্যের ধরণের ওপর প্যাটার্নের ধরণ যেখানে কিছুটা নির্ভরশীল হয়। এসময় পাইলটের রেডিও সিগন্যাল খুঁজে বের করার চেষ্টা করে তারা। এটি সম্ভব না হলে তারা EO/IR (Electro-Optical/Infrared) Sensor এর দ্বারা বিচ্ছিন্ন ও নিখোঁজ পার্সোনেলের হিট সিগনেচার, তাদের তৈরি করা ধোঁয়া বা বিশেষ ধরণের আয়নার প্রতিফলন হতে তৈরি সংকেত খুঁজে বের করার চেষ্টা চালান। রাতের বেলা যেখানে বিপরীতে Strobe Light অথবা বিশেষ ধরণের কাপড়ের মতো বস্তু ব্যবহার করে বিপদগ্রস্থ পার্সোনেল কর্তৃক সংকেত পাঠাবার চেষ্টা হয়ে থাকে।

অতঃপর Isolated Person (IP) কে সফলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হলে গ্রাঊণ্ডের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রিকভারির আকার পরিবর্তন হতে পারে। যেমন, আমাদের আজকের আলোচ্য রিকভারি তৎপরতা অনেক বড় আকার ধারণ করেছিল। যেখানে IP ভূপৃষ্ঠ হতে ৭,০০০ ফুট উচ্চতার শৈলশিরাতে চড়েছিলেন এবং তাকে উদ্ধারের জন্য Air Combat Command এর বাহিরের স্পেশাল মিশন ইঊনিট হতে অপারেটরদের আনয়ন করার দরকার হয়েছিল।

অবশ্য, অপারেশনের আকার IP কে সফলভাবে খুঁজে বের করার আগেই, অপারেশন শত্রুসীমার কতখানি গভীরে এবং কোন মাত্রার বিপদসংকুল পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তন করা হতে পারে। আমরা আলোচনার রিকভারি পর্যায়ে চলে এসেছি। এখানে পৌঁছে স্মরণ রাখা দরকার যে, বিচ্ছিন্ন পার্সোনেলকে চিহ্নিতকরণ ও রিকভারিতে স্রেফ মার্কিন সামরিক বাহিনী এককভাবে কাজ করে না। উদ্ধার তৎপরতার একটি প্রকার হলো Nonconventional Assisted Recovery (NAR)। যেখানে শত্রুদেশের ভূখণ্ডে মার্কিন স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্সেস ও গোয়েন্দা বাহিনীর হাতে প্রশিক্ষিত গোপন বিশ্বাসঘাতকদের নেটওয়ার্ক মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিচ্ছিন্ন ও বিপদগ্রস্থ নিখোঁজ সদস্যকে সন্ধান করায় এবং তাকে নিরাপদ রাখায় অবদান রাখে। আরেকটি হলো Unconventional Assisted Recovery (UAR)। যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বিদ্রোহী বাহিনীর সদস্যরা মার্কিন কমাণ্ডোদের তত্বাবধানে বিচ্ছিন্ন ও নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালায়। সাম্প্রতিক অপারেশনে আমরা Central Intelligence Agency এর অবদানের কথা শুনেছি। এক্ষেত্রে উপরোক্ত বিষয়টি মনে রাখা যেতে পারে।

যাইহোক, রিকভারি যেখানে পরিচালিত হতে পারে, সেখানকার পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় জড়িত বাহিনীর আকারে ও কৌশলে পরিবর্তন আসে। সাধারণভাবে Personnel Recovery (PR) এর অপারেশন স্রেফ চিহ্নিত করার পর হেলিকপ্টার দ্বারা পাইলটকে তুলে নেওয়ার দ্বারা সমাপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু, অনেক সময় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সেখানে Air Force Special Operations Command (AFSOC), Joint Special Operations Command (JSOC) ও Special Operations Command (SOCOM) সহ Air Force Global Strike Command (AFGSC) এর মতো বিভিন্ন হেডকোয়ার্টার্সকে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

AFSOC যেখানে বিমান বাহিনীর Special Tactics Squadron ও Special Mission Aircraft দ্বারা সহায়তা করে। Special Tactics Squadron এর আগমন হলে যেখানে CRO ও Pararescuemen দের পাশাপাশি আরো থাকে Combat Controller (CCT), Special Reconnaissance (SR) Airmen সহ Special Tactics Tactical Air Control Party (TACP) এবং Special Tactics Officers (STO) দের সমন্বিত দল। যারা শত্রুসীমার গভীরে MC-130J Commando-II এর মতো বিশেষায়িত বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের স্থান নির্বাচন, স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, ল্যাণ্ডিং স্ট্রিপের মাটির উপযোগিতা পরীক্ষা ও Air Traffic Control এর মতো আরো নানান জটিল তৎপরতা পরিচালনায় সিদ্ধহস্ত। আমাদের সামনে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া অপারেশনে আমরা যাদের কাজের ফলাফল সরাসরি দেখতে পেয়েছি। যেখানে ইস্ফাহানের নিকটবর্তী একটি অব্যবহৃত রানওয়েতে তারা বিমান বাহিনীর MC-130J অবতরণ করিয়েছিলেন। যে রানওয়েটি কিনা অনেক আগে চতুর্দিকের ক্ষেতে চাষের ফসলে সার ইত্যাদি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ছোট্ট আকৃতির প্লেনের জন্য তৈরি হয়েছিল বলে শোনা যায়। যদিও, MH-6M এর ওজনের কারণে অথবা সংঘর্ষের মাঝে পড়ে কিংবা অন্য কোনো অজ্ঞাত কারণে বিমানগুলি কিছুসময় পর টেক-অফের উপযোগিতা হারিয়ে ফেলে। যাইহোক, AFSOC এর আগমনের সাথে সাথে আরেকটি যে বিশেষায়িত যন্ত্র CSARTF এর অন্তর্ভুক্ত হয়, তা হলো AC-130J Ghost Rider। আকাশে ভাসমান আর্টিলারি ব্যাটারি বললেও হয়তো যার সম্পর্কে অত্যুক্তি হবে না।

আর, যেমনটি আমরা দেখেছি, AFSOC এর সাথে সাথে এসময় দৃশ্যপটে আরো চলে আসে JSOC। উদ্ধার তৎপরতায় সরাসরি শত্রুর সাথে সংঘাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, IP বন্দি হয়ে বসলে অথবা শত্রুসীমার অনেকখানি গভীরে গিয়ে উদ্ধার পরিচালনার প্রয়োজন হলে JSOC এর আগমন ঘটে। আমাদের সাম্প্রতিক অপারেশনে যে কমাণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করছিলো SEAL Team SiX। যাদের সাথে 24 Special Tactics Squadron (24 STS) ছিল বলে ধরেই নেওয়া যায়। পাশাপাশি, শেষপর্যায়ে ভূমিতে হেলিকপ্টার ও বিমানকে বিস্ফোরক বসিয়ে ধ্বংস করার জন্য (Deliberate Destruction/Denial Operation) সেখানে আগমন করে 1st Special Forces Operational Detachment - Delta এর বিশেষায়িত দল। পাশাপাশি JSOC ও SOCOM এর অন্তর্গত অন্যান্য বাহিনীকে অপারেশনের নানান পর্যায়ে নানান ভূমিকায় মোতায়েন করা হয়ে থাকে।

অপারেশন এতখানি বৃহৎ আকার নিলে সেখানে আরো অনেক কম্পোনেন্ট যুক্ত হয়। যার মাঝে অন্যতম হলো Air Force Global Strike Command (AFGSC)। যারা নিজেদের B-1, B-2 ও B-52 নিয়ে অপারেশনটিকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য অবস্থান নেয়। সবমিলিয়ে একটি CSARTF যে আর্কিটেকচারের বাহিনীতে শেষপর্যন্ত পরিণত হয়, তা বলা চলে একটি Counter-proliferation operation এর নিকটবর্তী।

                               (রিকভার)

রিকভারি সম্পর্কে আশা করি না বললেও চলছে। Weapon Systems Officer (WSO) এর অবস্থান চিহ্নিত করার পর তার চতুর্দিকে ৩,০০০ মিটারের একটি Exclusion Zone স্থাপন করা হয়েছিল বলে আপাতত জানা গিয়েছে। অনুরূপ বা ভিন্ন আকারের Sanitized Zone হয়তো Forward Arming & Refueling Point (FARP) এর চতুর্দিকেও স্থাপিত হয়েছিল। এরকম জোনের দায়িত্বে AC-130J ও A-10 এর মতো বিমানকে রাখা হয়ে থাকে। যারা মূলত Enforcer হিসাবে কাজ করে। আর, পাইলটকে উদ্ধারের জন্য SEAL Team SiX ও 24 Special Tactics Squadron এর টিম গমন করেছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। শোনা যায় যে, ওরা সেখানে ০৯ জনকে হত্যা করে।

যাইহোক, আমি বরঞ্চ ইরানের রিকভারির দিকে চলে যাই। আমাদের কাছে অনেক মানুষের সর্বপ্রথম প্রশ্ন হলো, ইরান কেন প্রতিহত করতে পারলো না। আমি এক্ষেত্রে ০৩টি কারণ দেখছি।

০১|

ইরান ০১ জন পাইলটকে বন্দি করার জন্য অথবা সুযোগ বুঝে বাড়তি কিছু বিমান শুটডাঊনের জন্য এমন বিস্তীর্ণ ফায়ার-পাওয়ারের মুখে পড়তে চায়নি। যদিও ওরা কিছু ক্ষয়-ক্ষতি করেছে, তবে, Target of Opportunity ধরবার সুযোগ যেমন ছিল, তার তুলনায় ওরা তেমন কিছু করেনি।

০২|

ইরান নিজেদের দূর্বল হিসাবে উপস্থাপন করেছে। অথবা নিজেদের শক্তি লুকিয়ে রেখেছে। অপারেশন যে অঞ্চলে হয়েছে, সেখানে ইরানের Isfahan Nuclear Technology Center অবস্থিত। যেখানে নিঊক্লিয়ার ওয়ারহেড তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি Uranium Conversion Facility (UCF) রয়েছে। ইস্ফাহানের বিষয়ে মার্কিনীদের ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট মতে আমরা আরো জানি যে, ইস্ফাহান মাঊন্টেন কমপ্লেক্সের গহীনে ইরানের আনুমানিক ৬০ শতাংশ Highly Enriched Uranium (HEU) এর মজুদ লুকায়িত ছিল অথবা এখনো রয়েছে।

Joint Special Operations Command (JSOC) যদি সামনে কখনো ইরানের কাছ হতে পারমাণবিক শক্তি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বা ধ্বংস করার জন্য Counter-proliferation Operation আরম্ভ করে, তাহলে উক্ত অপারেশনের মূল সাপোর্ট আর্কিটেকচার অনেকাংশে একটি CSARTF এর মতো হওয়ার কথা। আমাদের আলোচিত ইরানিরা যদি বুদ্ধিমান হয়, তাহলে সময়মতো আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পেলেও পেতে পারি।

০৩|

এটি আরেকটি সম্ভাবনা। তা হলো, ইরান মরনপণ চেষ্টা করেছে। তবে, অত্যধিক শক্তিশালী সামরিক শক্তির মুখে পড়ে ব্যর্থ হয়েছে। অথবা, ইস্ফাহান ও সংলগ্ন অঞ্চলে মার্কিনী ও ইসরায়েলি হামলা এতখানি বিধ্বংসী ছিল যে, ওখানে ইরানি সামরিক বাহিনীর তেমন কোনো সক্ষমতা অক্ষত নাই। যা আসলে এখন পর্যন্ত আমার কাছে একটি Low Confidence সম্ভাবনা বলে পরিগণিত।

সবশেষে, আরো অনেক কিছু সংযুক্ত করার ছিল। সর্বশেষ পর্যায়, Re-integration ও সেখানে SERE Specialist দের ভূমিকা নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম। তবে, আপাতত এতখানিই সম্ভব হয়েছে। লেখাটি পড়ার পর স্মরণ রাখার অনুরোধ যে, লেখাটি বর্তমান সময় নাগাদ সম্প্রচার হওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে লিখিত। তথ্যের পরিবর্তন হলে যার বাস্তবতা পরিবর্তিত হতে পারে। আর, লেখার শুরুতে বৈমানিকদের দৃশ্যপট সুনিশ্চিত তথ্য নয়, বরঞ্চ সম্ভাব্য পরিস্থিতির কাল্পনিক চিত্রায়ণ।


Comments

Popular posts from this blog

 রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু Kaler Kantho এর কাছে গেলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওনার বঙ্গভবনে অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। উনি বলেন যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ওনাকে তখন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন। "সশস্ত্র বাহিনী আমাকে স্রেফ একটি কথা বলেছিল। তা হলো, মহামান্য! আপনি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিকনায়ক! আপনার পরাজয়ের অর্থ সমগ্র সামরিক বাহিনীর পরাজয়। আর আমরা যেকোনো মূল্যে সেটি রুখে দেওয়ার চেষ্টা করব! শেষে ওনারা তাই করেছেন। ওনারা বিভিন্ন সময়ে এসেছেন, আমাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন।" অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একবার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে ওনার পদ হতে সরাতে চেয়েছিল। তখন Chief of Army Staff, Chief of Naval Staff ও Chief of Air Staff তথা বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধান রুখে দাঁড়ান ও Muhammad Yunus কে বলেন যে, "আমরা সংবিধানের বিপরীত কোনো কার্যকলাপ সংঘটিত হতে দিব না!" যখন বঙ্গভবনের সামনে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের মানুষ রাষ্ট্রপতির পতনের দাবি নিয়ে জড়ো হয়েছিল, তখনো সামরিক বাহিনী উপরোক্ত অবস্থান ধরে রাখে। Party-BNP এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উক্ত সময়টিতে বিনা দ্বিধায় রাষ্ট্রপতির পাশে ছিলেন মর্মেও জা...
 [সতর্ক অবস্থানে ও সম্মানজনক পরিবেশে অডিও চালুর অনুরোধ রাখা হলো] "Will you invoke ba'al and forsake The Best of Artisans!" দুনিয়ার বুকে Jeffrey Epstein ও ওর বন্ধুদের শত্রুতা কেন ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, আফ্রিকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, কাশ্মির, আরাকান, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, উইঘুরে স্রেফ মুসলমানদের সাথে তাঁর জবাব এখানেই আছে। For context, Epstein ছিল বা'আলের পূজারি। অন্তত তেমনটিই বর্তমানে বিশ্লেষকদের ধারণা। আর, নিচে কুরআনুল কারিমের আয়াত।  "তোমরা কি বা'আলকে ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে!" মেক্সিকোয় একজন বিচারক এক নারী, শিশু, মানব পাচারকারীর বিচার করছিলেন। একজন গুপ্তঘাতক তাকে গুলি করে। জানা যায় যে, শুটার আমেরিকান। এর আগে কেসের দায়িত্বে থাকা Mexican Intelligence Community এর অফিসার ও তার পার্টনারকে ০৪ বার গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তার পার্টনার সেসময় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ০২ জন মার্কিন ইন্টেলিজেন্স অপারেটিভকে হত্যা এবং ০৫ জনকে আহত করেন। এই দু'জন মেক্সিকান ইন্টেলিজেন্স অফিসারকে তখন মেক্সিকোর ইঊ.এস দূতাবাসের ডিপ্লোম্যাটিক প্লেট ...
 ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীকে পাকিস্তান সরকার ৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে United States Intelligence Community (USIC) এর কাছে বিক্রি করেছিল Inter Services Intelligence (ISI)। জানিয়েছেন ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীর আইনজীবী। পাকিস্তানি ইন্টেলিজেন্স কমিঊনিটির জন্য অর্থের লোভে নিরপরাধ পাকিস্তানি নাগরিকদের বন্দি করে বিক্রি করা অবশ্য মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। ISI এর অফিসারদের CIA এর কাছে মানুষ বিক্রি করার এই স্বভাব এতখানি ভয়ানক পৈশাচিক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, খোদ CIA একটা সময়ে ইসলামাবাদকে জানায় যে, এভাবে আর কাউকে বন্দি করা হলে আমরা অর্থ পরিশোধ করতে পারব না। এখন থেকে তোমাদের কাছে কেউ থাকলে তোমরা কোনো বিনিময় ছাড়া তাঁকে আমাদের হাতে তুলে দিবে। কারণ, CIA দেখছিল যে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে ওদের হাতে যাদেরকে তুলে দিচ্ছে, তাঁদের বড় একাংশ একেবারেই সাধারণ মানুষ। ফলে, CIA বুঝতে পারে যে, ISI অফিসাররা মূলত আমেরিকানদের পরিশোধিত টাকার লোভে পড়ে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে ওদের হাতে উঠিয়ে দিচ্ছে। ওদের ধোঁকা দিয়ে সোজা কথায় পুরোপুরি নিরীহ, অসহায় মানুষদের নির্যাতন করিয়ে Scam করছে। ফলে, আমেরিকানরা পাকিস্তানিদ...