একটু আগে ইরানের Air Defense Strategy সম্পর্কে ব্রাজিল ও আমেরিকার দু'জনের বিশ্লেষণ পড়ছিলাম। মজার বিষয় হলো ব্রাজিলিয়ানের বিশ্লেষণটি গেলো মার্চের ২১ তারিখে লেখা হয়েছিল।
যেখানকার বিষয়বস্তু হলো, ইরানের ভূ-প্রকৃতি ইরানের জন্য যেমন সুবিধা তৈরি করছে, তেমনি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য চরম সমস্যার কারণও হয়েছে। ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা পাহাড়ের কারণে রাডার সিস্টেমকে পাহাড়ের চূড়ার মতো নানান উচু স্থানে স্থাপন করতে হয়। নতুবা কার্যকর সুবিধা পাওয়া সম্ভব হয় না। ২১ তারিখের লেখায় বলা হয়েছিল যে, আপাতত ইরানের সামরিক বাহিনী এসমস্ত রাডার ঝুঁকির কারণে অপারেশনাল না করে বরং লুকিয়ে রেখে দিয়েছে। পাশাপাশি এগুলোকে মোতায়েন করার কৌশলেও বিভিন্ন পরিবর্তন এনেছে।
তার মতে, ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর আনা ইরানের এসকল পরিবর্তনের মাঝে অন্যতম হলো Emissions Control (EMCON) ও Passive Detection। যেখানে ইরান Optical এবং Infrared Search and Track (IRST) সেন্সর ও ড্রোন দ্বারা সর্বপ্রথম যুদ্ধবিমান শণাক্ত করে। একে বলা হয় Passive Detection। অন্যদিকে সম্পূর্ণ সময় রাডার বন্ধ থাকায় শত্রু বিমান কোনো সতর্কবার্তা পায় না। যার নাম EMCON। এরপর যখন শত্রু না বুঝতে পারার ফলে ইন্টারসেপ্টরের লঞ্চারের আওতায় ঢুকে পড়ে, তখন আচমকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার খুব সামান্য কয়েক মূহুর্তের জন্য চালু করে মিসাইল লঞ্চ করে দেওয়া হয়। তারপর রাডার তাৎক্ষণিক ওখান হতে সরে পড়তে থাকে।
সম্পূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসময় আনুমানিক ১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভূ-গর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও লোকালয়ের ঘনবসতির আড়াল নিয়ে ছড়িয়ে থাকে। এবং Passive Detection এর সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত বের হয় না। তার মতে ইরান মূলত এসকল লং রেঞ্জ সিস্টেমকে মোবাইল আর্টিলারি সিস্টেমের মতো ব্যবহার করছে। যেখানে লঞ্চ হতে পুনরায় মুভমেন্টের মাঝে আনুমানিক ২৪০ সেকেণ্ড সময়ের ব্যবধান থাকে। যে কৌশলের জন্য মিডিয়াম রেঞ্জের ডিফেন্স সিস্টেম বেশ কার্যকরী।
আমেরিকান বিশ্লেষক মূলত একজন Israeli Air Force অফিসারের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। ওখানকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, ইরান বিভিন্ন রাশান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বদলে নিজস্ব প্রযুক্তির Bavar-373 জাতীয় ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করছে। যার ভেতরে সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে লঞ্চারকে স্বাধীনভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও অপারেশনাল থাকার সক্ষমতা যোগ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ইরান এখন ওদের নিজস্ব শর্ট রেঞ্জ লো-অল্টিচিঊড সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম, Majid ব্যবহার করছে। এটা হলো Defensive Counter Air (DCA) তৎপরতার গেরিলা। যার ডিটেকশন ও টার্গেটিংয়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া হলো Passive।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর আলোচ্য কর্মকর্তা অবশ্য আরেকটি দাবি করেছে, তা হলো, ইরান চায়নিজ HQ-9B ব্যবহার করছে। যদিও, এর বিষয়ে আমি নিজে অনিশ্চিত। আলোচ্য কর্মকর্তার মতে, ইরানের আকাশে নির্বিঘ্নে যুদ্ধবিমান পরিচালনার দিন বর্তমানে শেষ হয়েছে।
ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment