Skip to main content

 ওমানের সালালাহ বন্দরে IRGC কেন হামলা চালাবে তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ। ইরান এখানে হামলা চালাবে, তার কারণ হলো, ওমান হলো আরব সাগরের তীরে U.S. Navy সহ মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বড় লজিস্টিক্স, রি-সাপ্লাই, মেইনটেন্যান্স ও সাপোর্ট এরিয়া।


ওমানের আল-যুক্বম বন্দরে বৃটিশ মিলিটারির United Kingdom Joint Logistics Support Base (UKJLSB) অবস্থিত। পার্শিয়ান গালফের বাহিরে ও আবার সাথে সাথে সুয়েজের পূর্বদিকে হওয়ায় এটিকে কৌশলগত একটি ঘাঁটি হিসাবে বৃটেন ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে বৃটিশ নেভির Littoral Response Group (South) এর সমস্ত জাহাজ এখানে অবস্থান করে। বৃটেনের আলোচ্য ঘাঁটি বৃটিশ আর্মড ফোর্সেসের Strategic Command (StratCom) এর অধীনে পরিচালিত হয়। সুয়েজ বৃটিশদের নিয়ন্ত্রণে রাখায় এর বড় অবদান রয়েছে।


গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়াতে বৃটিশ নেভি ও মার্কিন নেভি এটিকে ওদের বিমানবাহী রণতরীর সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি হিসাবে ব্যবহার করে। এখানে বৃটিশ মিলিটারির শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।


U.S. Department of State ও ওমানের সরকারের মাঝে একটি Defense Cooperation Agreement বিদ্যমান রয়েছে। যার অধীনে ওমানের সালালাহ ও যুক্বম ঘাঁটি ২০১৯ সাল হতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দ্বারা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। '১৯ সালে নতুন করে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বজায় রাখার জন্য এসমস্ত ফ্যাসিলিটি মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে। অর্থাৎ, এটি ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ওমান সরকারের যৌথ প্রযোজনায় পরিচালিত সামরিক ঘাঁটি।


এগুলো গেলো নৌ-ঘাঁটি। RAFO Thumrait হলো ওমানের বিমান বাহিনীর ঘাঁটি। ওমানের সুমরাঈতে অবস্থিত আলোচ্য ঘাঁটি United States Air Force এর দ্বারা অন্তত ১৯৯১ সাল হতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। '৯১ সালের ঊপসাগরীয় যুদ্ধ, ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান ও ২০০৩ সালের ইরাকে সামরিক অভিযান সহ অত্র অঞ্চলে পরিচালিত সকল মার্কিন সামরিক পদক্ষেপে সুমরাঈত আমেরিকা, বৃটেন ও অন্যান্যদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে। 


মার্কিন বিমান বাহিনীর War Reserve Materiel (WRM) এর একটা বিরাট স্টোরেজ আছে এখানে। পাশাপাশি এটি মার্কিন বিমান বাহিনীর ১,১০০ পার্সোনেল পরিমাণ শক্তির তাৎক্ষণিক মোতায়েনের উপযোগী সামগ্রী ধারণ করে। যাকে এয়ারফোর্স টার্মে Harvest Falcon depot বলা হয়। DynCorp এর মার্সেনারিরা এখানে ওসবের দেখভাল করে থাকে।


ওমানের উপকূল হতে কিছুটা দূরত্বে মাসিরাহ দ্বীপে আছে RAFO Masirah। ১৯৮০ সালে স্বাক্ষরিত ও পরবর্তীতে '১৯ সালে পুনরায় নবায়নকৃত চুক্তির আওতায় মার্কিন নেভির maritime patrol aircraft এখান হতে আরব সাগরে ও হরমুজ প্রণালীতে অপারেশন পরিচালনা করে। '৮০ এর দশকে 1st Special Forces Operational Detachment - Delta এর ইরানে পরিচালিত হতে চলা ও পরবর্তীতে দূর্যোগের কবলে পড়ে ব্যর্থ হওয়া Operation Eagle Claw এর স্টেজিং গ্রাউণ্ড হিসাবে এটি কাজ করেছিল। এরপর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু হলে এখানে পুনরায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্টেজিং করা হয়।


এখানে U.S. Air Forces Central (AFCENT) এর একটি War Reserve Materiel (WRM) স্টোরেজ আছে। এটি সার্বক্ষনিক Warm স্ট্যাটাসে রাখা হয়। যার অর্থ হলো, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দরকার হলে বা ঘাটতি দেখা দিলে কয়েকদিনের ভেতরে এসব লজিস্টিক্স সামগ্রী রিজার্ভ হতে বের করে যুদ্ধে মোতায়েন করা সম্ভব। আলোচ্য ঘাঁটিটিও DynCorp এর দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে।


এবার আসছি মূল জায়গাতে। রাজধানী মাসকাটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মূল বেসামরিক বিমানবন্দরের সাথে থাকা RAFO Seeb মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে পার্শিয়ান গালফ অঞ্চলে NATO এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সুমরাঈতের মতো ঘাঁটির দূরত্বের কারণে যেখানে কিনা ওদের বেশিরভাগ ইঊনিটের রিয়ার এরিয়া সরে এসেছে। সুতরাং, ইরান মাসকাটের আলোচ্য বিমানবন্দরে উড়িয়ে দিলেও অবাক হওয়ার কিছু দেখছি না আমি।


অনেকে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পাজেঁশকানের ক্ষমাপ্রার্থনার কথা বলে Flase flag এর দাবি করতে পারেন। বাস্তবতা হলো, IRGC বর্তমানে রাষ্ট্রপতি বা অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে চলছে না। বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক দায়িত্বশীল ও Secretary of National Security Council আলি লারিজানি। রাষ্ট্রপতির এখানে কানাকড়ি মূল্য নাই। IRGC বরঞ্চ রাষ্ট্রপতির লিবারেল ভাবমূর্তি ব্যবহার করে নিজেদের হামলাকে False flag বলে কূটনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালাতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রপতিকে এমনিতেও IRGC এর কঠোর ডানপন্থীরা সম্মান করে না। সুতরাং, সে এখানে কিছুই না বলে আমার ধারণা।


আরেকটি বিষয় হলো, ইরান এখন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটি De-centralized C2 পরিচালনা করছে। এখানে কোনো IRGC এর মিসাইল বা ড্রোন ইঊনিট কমাণ্ডার ওমানকে Pre-Designated Target হিসাবে নিজের সুবিধামতো সময়ে কাউকে না জানিয়ে হামলা করলেও করতে পারেন।


ধন্যবাদ।

Comments

Popular posts from this blog

 রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু Kaler Kantho এর কাছে গেলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওনার বঙ্গভবনে অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। উনি বলেন যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ওনাকে তখন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন। "সশস্ত্র বাহিনী আমাকে স্রেফ একটি কথা বলেছিল। তা হলো, মহামান্য! আপনি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিকনায়ক! আপনার পরাজয়ের অর্থ সমগ্র সামরিক বাহিনীর পরাজয়। আর আমরা যেকোনো মূল্যে সেটি রুখে দেওয়ার চেষ্টা করব! শেষে ওনারা তাই করেছেন। ওনারা বিভিন্ন সময়ে এসেছেন, আমাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন।" অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একবার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে ওনার পদ হতে সরাতে চেয়েছিল। তখন Chief of Army Staff, Chief of Naval Staff ও Chief of Air Staff তথা বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধান রুখে দাঁড়ান ও Muhammad Yunus কে বলেন যে, "আমরা সংবিধানের বিপরীত কোনো কার্যকলাপ সংঘটিত হতে দিব না!" যখন বঙ্গভবনের সামনে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের মানুষ রাষ্ট্রপতির পতনের দাবি নিয়ে জড়ো হয়েছিল, তখনো সামরিক বাহিনী উপরোক্ত অবস্থান ধরে রাখে। Party-BNP এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উক্ত সময়টিতে বিনা দ্বিধায় রাষ্ট্রপতির পাশে ছিলেন মর্মেও জা...
 [সতর্ক অবস্থানে ও সম্মানজনক পরিবেশে অডিও চালুর অনুরোধ রাখা হলো] "Will you invoke ba'al and forsake The Best of Artisans!" দুনিয়ার বুকে Jeffrey Epstein ও ওর বন্ধুদের শত্রুতা কেন ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, আফ্রিকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, কাশ্মির, আরাকান, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, উইঘুরে স্রেফ মুসলমানদের সাথে তাঁর জবাব এখানেই আছে। For context, Epstein ছিল বা'আলের পূজারি। অন্তত তেমনটিই বর্তমানে বিশ্লেষকদের ধারণা। আর, নিচে কুরআনুল কারিমের আয়াত।  "তোমরা কি বা'আলকে ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে!" মেক্সিকোয় একজন বিচারক এক নারী, শিশু, মানব পাচারকারীর বিচার করছিলেন। একজন গুপ্তঘাতক তাকে গুলি করে। জানা যায় যে, শুটার আমেরিকান। এর আগে কেসের দায়িত্বে থাকা Mexican Intelligence Community এর অফিসার ও তার পার্টনারকে ০৪ বার গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তার পার্টনার সেসময় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ০২ জন মার্কিন ইন্টেলিজেন্স অপারেটিভকে হত্যা এবং ০৫ জনকে আহত করেন। এই দু'জন মেক্সিকান ইন্টেলিজেন্স অফিসারকে তখন মেক্সিকোর ইঊ.এস দূতাবাসের ডিপ্লোম্যাটিক প্লেট ...
 ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীকে পাকিস্তান সরকার ৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে United States Intelligence Community (USIC) এর কাছে বিক্রি করেছিল Inter Services Intelligence (ISI)। জানিয়েছেন ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীর আইনজীবী। পাকিস্তানি ইন্টেলিজেন্স কমিঊনিটির জন্য অর্থের লোভে নিরপরাধ পাকিস্তানি নাগরিকদের বন্দি করে বিক্রি করা অবশ্য মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। ISI এর অফিসারদের CIA এর কাছে মানুষ বিক্রি করার এই স্বভাব এতখানি ভয়ানক পৈশাচিক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, খোদ CIA একটা সময়ে ইসলামাবাদকে জানায় যে, এভাবে আর কাউকে বন্দি করা হলে আমরা অর্থ পরিশোধ করতে পারব না। এখন থেকে তোমাদের কাছে কেউ থাকলে তোমরা কোনো বিনিময় ছাড়া তাঁকে আমাদের হাতে তুলে দিবে। কারণ, CIA দেখছিল যে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে ওদের হাতে যাদেরকে তুলে দিচ্ছে, তাঁদের বড় একাংশ একেবারেই সাধারণ মানুষ। ফলে, CIA বুঝতে পারে যে, ISI অফিসাররা মূলত আমেরিকানদের পরিশোধিত টাকার লোভে পড়ে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে ওদের হাতে উঠিয়ে দিচ্ছে। ওদের ধোঁকা দিয়ে সোজা কথায় পুরোপুরি নিরীহ, অসহায় মানুষদের নির্যাতন করিয়ে Scam করছে। ফলে, আমেরিকানরা পাকিস্তানিদ...