আমার Comment Section এসে বাংলাদেশি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড দেখিয়ে কিছু মানুষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে, সাঊদি আরাবিয়া ইরানে হামলার জন্য মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। যার জন্য ইরানের রাষ্ট্রদূত সাঊদিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।
ওদিকে আপনাদের প্রমাণের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে স্বয়ং United States Air Force এর একজন F-35 পাইলট। আজ ইসরায়েলের ওঁভদা বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর স্টিলথ ফ্লাইট উড্ডয়ন করে সাঊদি আকাশসীমা হয়ে ইরানে হামলা পরিচালনা করে। এসময় ফর্মেশনের ০১ জন পাইলট নিজের ফাইটারের ট্রান্সপণ্ডার বন্ধ করতে ভুলে যায়। ফলে বিমানটির ইসরায়েল হতে সাঊদি হয়ে ইরানে সর্টি পরিচালনার সম্পূর্ণ পথ Flightradar24.com থেকে ট্র্যাক হতে থাকে।
আপনারা যা বিশ্বাস করেন, আমরা ওসবের ঠিক বিপরীতটা বিশ্বাস করি। কয়েকদিন আগে ইরানে হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী Ishaq Dar কে টেলিফোন করেছিল। আমাকে সেই টেলিফোন করার সংবাদের লিংক দিয়ে আরেকজন প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে, পাকিস্তান আসলে ইরানের বন্ধু। অথচ গতদিন ঠিকই স্বয়ং ইসহাক দার পাকিস্তান সিনেটকে জানিয়েছেন যে, উনি পরবর্তীতে ইরান কর্তৃক সাঊদিতে হামলার গুঞ্জন উঠলে তেহরানকে টেলিফোন করে ভদ্রতার সাথে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর শক্তির হুমকি দিয়েছেন। যার বিপরীতে তেহরান হতে পাকিস্তানকে নিজের ভূখণ্ড আমেরিকার দ্বারা ব্যবহৃত হতে না দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
সুতরাং, আমাদের কাছে এসমস্ত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক, ফোনালাপ, সফরের কানা-কড়ি মূল্য নাই। এসব সাঊদি, পাকিস্তান, মিসরের মতো ভণ্ডদের আমরা খুব ভালো করে চিনি।
গণমাধ্যমকে আলাপের পর হয়তো বলা হয় যে, আমরা দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো উন্নত করা নিয়ে আলাপ করেছি। এখন গণমাধ্যম অথবা আমি তো উক্ত টেলিফোন কলে ছিলাম না। আমাদের কি জানা আছে যে, সম্পর্ক উন্নত করার আলাপটা আসলে কোন ভাষায়, কতখানি শিষ্টাচারের সাথে হয়েছে! আমরা এসব বিশ্বাস করি না। আমরা দেখি পূর্বের কৃতকর্ম। তারপর তা অনুযায়ী সেখান হতে বর্তমান আনুমানিক যৌক্তিক কর্মকাণ্ডের একটি ধারণা প্রস্তুত করার চেষ্টা করি। হয়তো শতভাগ নির্ভুল হয় না। তবে, কাছাকাছি রাখার চেষ্টা থাকে।
যাইহোক, বলার দরকার বলে রাখলাম। আশা করি তাড়াতাড়ি শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ হবে আমাদের।
ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment