আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের যুদ্ধকালীন সংবাদ নিয়ে জানা-শোনার ভয়ঙ্কর ঘাটতি। সাধারণ মানুষ বাদ রাখি, জার্নালিস্টদের পর্যন্ত সাধারণ জ্ঞানটুকু নাই।
আজ একটু আগেই একটি মিডিয়ার রিপোর্ট করেছে যে, আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান Pakistan Air Force এর হামলায় নিহত হয়েছেন। যুদ্ধকালীন সময়ের Information Space সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান আছে এমন যে কেউ এই খবরটিকে সরাসরি ভুয়া বলে উড়িয়ে দিবেন। এটা Information Warfare এর এমন একটা দিকের অন্তর্ভুক্ত, যার লক্ষ্যবস্তু Facebook, Twitter চালিয়ে থাকে, কিন্তু, সাধারণ জ্ঞানের দৌড় খুব সীমিত, এমন জনগোষ্ঠী। যারা Reels এ Tarique Rahman কে টাকা বিতরণ করতে দেখলে নিজেদের বিকাশ, নগদ কমেন্ট করে দেন।
এখন আমাদের দেশের সাংবাদিকরাও যে ঐ কাতারে পড়েন, তা আমার জানা ছিল না। আমি জানতাম যে, ওনারা আমাদের আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টারকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বলেন, তবে, আমার ধারণা ছিল যে, এখন সেই দৈন্যদশার দিন গত হয়েছে। আমি ভুল ছিলাম।
ওনারা লিখেছেন যে, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিংকট্যাংক সংস্থা নাকি দাবি করেছে যে, আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান মারা পড়েছেন!
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিংকট্যাংক বলতে ওনারা যেখানে বুঝিয়েছেন একটি ৩য় শ্রেণীর Twitter Account 'কে। যার নাম হলো OSINT Europe৷ আমি আজকের পূর্বে যে হ্যাণ্ডলের নাম কখনো শুনি নাই। প্রতিবেদনের ভেতরে পত্রিকাটি Open Source Intelligence (OSINT) কে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিংকট্যাংক বানিয়েছে৷ আর OSINT Europe নাকি ওটার ইঊরোপ শাখা।
বিশ্বাস করা যায়! Open Source Intelligence যে একটা গোয়েন্দা সংস্থা! তাহলে আমার মতো মানুষেরা কি! এই সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অপারেশন্স অফিসার!
Open-source intelligence (OSINT) is the collection and analysis of data gathered from open sources (overt sources and publicly available information) to produce actionable intelligence.
দিলাম সোজা Wikipedia থেকে সংজ্ঞা সংগ্রহ করে। কিছু একটু শিক্ষা হোক। OSINT কোনো গোয়েন্দা সংস্থা না! বলা উচিত, আমি অনলাইনে কিছু একটা লিখলেই, আর আপনি সেটি পড়লে ওটাও কোনো এক জাতের OSINT বলা যায় হয়তোবা।
সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, মানুষ এই রিপোর্ট দেখেও আমার কাছে গিয়ে জানতে চেয়েছন যে, এটা সঠিক কিনা! আমরা মানুষকে 5th Gradient of Warfare, Cognitive Warfare ইত্যাদি নিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করছি। এদিকে আমাদের সাধারণ জ্ঞানটুকুও নাই!
বুর্জ খলিফার ওপরে দাঁড়িয়ে দেখলাম, নিচে ভিত্তি নাই।
ধন্যবাদ।
*****
দুপুরের পোস্টে বলেছিলাম যে, পাকিস্তানের ISI এর Technical Surveillance তৎপরতায় Mossad এর রিমোট অ্যাকসেস রয়েছে। যা সম্পর্কে Amnesty International ও কয়েকটি অনুসন্ধানী গবেষণামূলক সংস্থা এবং পত্রিকার রিপোর্ট আছে।
Mossad ও ISI এর কো-অপারেশন অবশ্য নতুন কিছু না। এটি বহু আগে থেকে ঘটছে। বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে। ইণ্ডিয়ার মুম্বাই হামলার কথাই যদি ধরা হয়, এই হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কতা পেয়ে ISI এর তৎকালীন Director General নিজে Mossad এর ডিরেক্টরের কাছে গিয়ে সমস্ত প্রাপ্ত ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ওর কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।
বিশেষ করে, নরিমন হাঊজ, যেটি কিনা ইসরায়েলের ধর্মীয়, সামরিক ও রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী সংগঠন Chabad-Lubavitch Movement এর কাঠামোর অংশ, সেটি হামলাকারীদের টার্গেট লিস্টের অন্তর্ভুক্ত বলে মোসাদকে অবগত করে পাকিস্তান।
ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment