গতকাল জার্মানির মিঊনিঁখে হয়ে গেলো Munich Security Conference। গতকালের আলোচ্য কনফারেন্সে ইঊরোপের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। আমেরিকার Secretary of State Marco Rubio যেখানে Key-note Speaker হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। ওখানে উনি এক ভয়ানক, সভ্যতা বিবর্জিত ভাষণ দিয়েছেন। যেখানে উনি পৃথিবীকে তথা ইণ্ডিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান সহ Global South এর দেশগুলোকে পুনরায় পশ্চিমাদের কলোনি তথা ঊপনিবেশে পরিণত করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ভাষণের শেষে ওনাকে ইঊরোপিয়ান ও গ্লোবাল লিডারদের পক্ষ হতে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানো হয়। ভাষণটির কিয়দাংশ নিচে হুবহু বাংলায় তুলে ধরছি। পড়ুন। কারণ, আমাদের আমেরিকার সাথে করা সদ্য সমাপ্ত Trade Agreement এর দ্বারা আমাদের দাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।
(ভাষণ)
আজকের এই মূহুর্তে যখন খবরের শিরোনাম Trans-Atlantic যুগের অবসান ঘোষণা করছে, তখন সকলের কাছে স্পষ্ট করে জানানো প্রয়োজন যে, এটি আমাদের লক্ষ্য নয়, এটি আমাদের কামনাও নয়। কারণ আমরা আমেরিকানরা যদিও পশ্চিম গোলার্ধে বাস করি, তবু আমরা চিরকালই ইঊরোপের সন্তান হয়েই থাকব!
(অতিথিদের করতালি)
আমাদের গল্পের শুরু হয়েছিল একজন ইতালীয় অভিযাত্রীর হাত ধরে, অজানার পথে যার দূঃসাহসিক যাত্রা আবিষ্কার করেছিল এক নতুন পৃথিবীর এবং খৃষ্ট ধর্মকে নিয়ে এসেছিল আমেরিকার বুকে। আর সেই গল্প আজ আমাদের জাতির কল্পনাকে সংজ্ঞায়িত করার পথের পথিকৃৎ এক কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছে।
আমাদের প্রথম উপনিবেশগুলো গড়ে তুলেছিলেন ইংরেজ ঊপনিবেশবাদীরা। যাদের কাছে আমরা কেবল আমাদের ভাষার জন্যই শুধু না, বরং তার পাশাপাশি আমাদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর জন্যও ঋণী হয়ে আছি। আমাদের ফ্রন্টিয়ার অঞ্চল গড়ে উঠেছিল স্কটস-আইরিশদের দ্বারা। আলস্টারের পাহাড় থেকে আসা সেই গর্বিত ও দৃঢ়চেতা জনগোষ্ঠীর দ্বারা, যারা আমাদের জাতিকে উপহার দিয়েছেন ডেভি ক্রকেট, মার্ক টোয়েন, থিওডোর রুজভেল্ট এবং নীল আর্মস্ট্রং এর মতো ব্যক্তিত্বদের।
আমাদের মহান মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল গড়ে তুলেছিলেন জার্মান কৃষক ও কারিগররা, যারা শূন্য প্রান্তরকে এক বৈশ্বিক কৃষি শক্তিকেন্দ্রে রূপান্তর করেছিলেন—এবং প্রসঙ্গত, আমেরিকান বিয়ারের মানও নাটকীয়ভাবে উন্নত করেছিলেন।
(অতিথিদের হাসি)
আমাদের অভ্যন্তরীণ বিস্তার অনুসরণ করেছিল ফরাসি পশম ব্যবসায়ী ও অভিযাত্রীরা, যাদের নাম আজও মিসিসিপি উপত্যকার সর্বত্র, সকল শহর ও সড়কের নামফলকে শোভা পাচ্ছে। আমাদের ঘোড়া, আমাদের র্যাঞ্চ, আমাদের রোডিও—কাঊবয় প্রতীকের পুরো রোমান্টিক কল্পনা, যা আমেরিকান পশ্চিমের সঙ্গে সমার্থক হয়ে উঠেছে—এর জন্ম হয়েছিল স্পেনে। এবং আমাদের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে আইকনিক শহরের নাম একসময় ছিল নিঊ আমস্টারডাম, নিঊ ইয়র্ক হওয়ার আগে।
আর আপনি কি জানেন, যে বছর আমার দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সে বছর লরেঞ্জো ও কাঁতালিনা জেরাল্ডি ইতালির পিয়েমন্ট-সার্দিনিয়া রাজ্যে অবস্থিত কাসালি মনফেরাতোতে বসবাস করতেন! আর হোঁসে ও মানুয়েলা রেইনা বসবাস করতেন স্পেনের সেভিলে! আমি জানি না তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা অর্জনকারী ১৩টি উপনিবেশ সম্পর্কে কী জানতেন, বা আদৌ কিছু জানতেন কিনা! কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবে জানি—তারা কখনোই কল্পনা করতে পারেননি যে ২৫০ বছর পর, তাদের একজন সরাসরি বংশধর আবার এই মহাদেশে ফিরে আসবেন সেদিনকার সেই নবজাত রাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক হিসেবে। আর, আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, আর আমার নিজের অতীত আমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে আমাদের ইতিহাস ও আমাদের নিয়তি চিরকাল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
এই সেই পথ, যে পথে President Donald J. Trump ও যুক্তরাষ্ট্র অগ্রসর হয়েছে। এই পথেই আমরা ইঊরোপ হতে আপনাদের আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে আহ্বান জানাচ্ছি। এটি সেই পথ, যে পথে আমরা একসঙ্গে আগেও হেঁটেছি এবং আশা করি আবারও একসঙ্গে হাঁটব।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির আগ পর্যন্ত টানা পাঁচ শতাব্দী ধরে পশ্চিমা বিশ্ব বিস্তৃত হচ্ছিল! এর খৃষ্টান ধর্মপ্রচারকেরা, এর তীর্থযাত্রীরা, এর সৈন্যরা, এর অভিযাত্রীরা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পা রাখছিল নতুন মহাদেশে, স্থাপন করেছিল ঊপনিবেশ এবং গড়ে তুলছিল সমগ্র পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত বিশাল সাম্রাজ্য!
কিন্তু, তারপর! তারপর ১৯৪৫ সালে, কলম্বাসের যুগের পর প্রথমবারের মতো, সেই বিস্তার সংকুচিত হতে শুরু করে। ইঊরোপ পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। এর অর্ধেক চলে যায় Iron Curtain এর আড়ালে, এবং এর বাকিটুকুও শিগগিরই সেই পথে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। আমাদের মহান পশ্চিমা সাম্রাজ্যগুলো চূড়ান্ত পতনের পথে প্রবেশ করেছিল—যা ত্বরান্বিত হয়েছিল ঈশ্বর বিরোধী কমিঊনিস্ট বিপ্লব এবং ঊপনিবেশবিরোধী বিদ্রোহগুলির মধ্য দিয়ে। যা পরবর্তী বছরগুলোতে পৃথিবীর মানচিত্রের বিস্তীর্ণ অংশে লাল হাতুড়ি আর কাস্তের প্রতীককে ছড়িয়ে দিয়েছিল।
সেই প্রেক্ষাপটে, তখন যেমন, এখনও তেমনইভাবে অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, যে পশ্চিমের আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে! এবং আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের অতীতের এক ক্ষীণ ও দূর্বল প্রতিধ্বনি ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু, একইসাথে আমাদের পূর্বসূরিরা উপলব্ধি করেছিলেন যে, পতন কোনো অবশ্যম্ভাবী নিয়তি নয়। এটি একটি চয়েস! এবং তারা সেই চয়েসকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন! অতীতে আমরা একত্রিত হয়ে ঠিক যা করেছিলাম, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্র আজ আপনাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আবারও ঠিক সেটাই করতে চায়।
আর এ কারণেই আমরা চাই না যে, আমাদের মিত্ররা দুর্বল হোক—কারণ তা আমাদেরও দূর্বল করে তোলে। আমরা এমন মিত্র চাই যারা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম, যাতে কোনো প্রতিপক্ষ কখনোই আমাদের সম্মিলিত শক্তি পরীক্ষা করার সাহস না পায়। এ কারণেই আমরা চাই না আমাদের মিত্ররা (ঊপনিবেশবাদ ও লুন্ঠনের ইতিহাসকে ঘিরে) অপরাধবোধ আর লজ্জায় আবদ্ধ থাকুক। আমরা এমন মিত্র চাই, যারা নিজেদের (ঊপনিবেশবাদী) সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত। যারা বোঝে যে আমরা সবাই সেই একই মহান ও মহৎ সভ্যতার উত্তরাধিকারী, এবং এমন মিত্র, যারা আমাদের সঙ্গে মিলে সেই মহান ও মহৎ সভ্যতাকে রক্ষা করতে ইচ্ছুক ও সক্ষম।
এ কারণেই আমরা চাই না আমাদের মিত্ররা বর্তমান ভঙ্গুর ব্যবস্থাকে যুক্তিযুক্ত মনে করুক, ও এটিকে ওভাবেই টিকিয়ে রাখুক৷ বরং, আমরা চাই যে, আমাদের মিত্ররা এটিকে ঠিক করতে যা করা প্রয়োজন, তা করবার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করুক! কারণ, আমাদের, অর্থাৎ আমেরিকার, কোনো আগ্রহ নাই পশ্চিমা সভ্যতার পতনের ভদ্র ও শৃঙ্খলাবদ্ধ তত্ত্বাবধায়ক হয়ে থাকার। আমরা বিচ্ছিন্ন হতে চাই না! আমরা চাই একটি পুরোনো বন্ধুত্বকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতাকে নবায়ন করতে!
আমরা চাই এমন একটি পুনরুজ্জীবিত অ্যালায়েন্স, যা স্বীকার করবে যে, আমাদের সমাজগুলোর সমস্যার মূল কেবল কিছু ভুল নীতিতে নয়, বরং এক ধরনের হতাশা ও আত্মতুষ্টির ব্যাধিতে। আমরা চাই এমন একটি জোট, যা ভয়ের দ্বারা স্থবির হয়ে পড়বে না—জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়, যুদ্ধের ভয়, প্রযুক্তির ভয় দ্বারা থেমে যাবে না! বরং, আমরা চাই এমন একটি জোট, যা কিনা সাহসের সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। এবং আমাদের একমাত্র ভয় হবে এই লজ্জার ভয়—যে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য আরও গর্বিত, আরও শক্তিশালী এবং আরও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য রেখে যেতে পারিনি!
(স্ট্যাণ্ডিং ওঁভেশন ফ্রম দি অডিয়েন্স)
ওরা আমাদের পুনরায় ১৯৪৮ এর আগের মতো দাস বানিয়ে ফেলতে চায়৷ এবার অন্যভাবে। এতকাল পরোক্ষভাবে কলোনি ছিলাম, এবার সরাসরি '৪৮ এর আগে ফিরিয়ে নিচে চাচ্ছে। যেখানে আমাদের হয়তো দাস বানিয়ে রাখবে ওদের এদেশীয় দোসরেরা। এখন দাস হয়ে থাকব কিনা তা এবার আমাদের চিন্তা করার বিষয়!
ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment