লেখাটি ০৭ই আগস্ট, ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। আজ পুনরায় পাবলিশ করছি। আমরা সতর্ক করেছি। মানুষ আনন্দের জোয়ারে ভেসেছে। আমাদের দোষ কি! চলুন পড়ে দেখি কি লিখেছিলাম।
সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে C-130 মিলিটারি কার্গো ট্রান্সপোর্ট যখন ভারতের দিকে উড়তে শুরু করে, সেসময় জনতার উল্লাসের মাঝে একজন মিসরীয় বন্ধু আমাদের একটি উপদেশ দিয়েছিলেন। যার সারমর্ম ছিল -
"বাংলাদেশিরা যেন ঐ ভুল না করে, যা আমরা মিসরে করেছিলাম। আমরা হোসনি মোবারককে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নামিয়ে এনেছি, কিন্তু মোবারকের পেছনে থাকা সিকিঊরিটি অ্যাপারাটাস, সামরিক জান্তাকে আমরা রেখে দিয়েছি। ফলাফল হিসাবে আমরা পেয়েছি আজকের মিসর।"
বাংলাদেশে এখন বাংলাদেশ পুলিশ কর্মবিরতিতে গিয়েছে। কর্মবিরতির পেছনে কারণ হিসাবে ১১ দফা দাবি দিয়েছেন তারা। কিন্তু, Facebook এর অনেক স্থানে পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যেমন মন্তব্য দেখা যাচ্ছে, তাতে এসবের পেছনে অঙ্কিত হচ্ছে আরেক ধাঁচের চিত্র। এখন চলুন, মোবারক পরবর্তী মিসরের পুলিশ কি করেছিলো একটু দেখি।
হোসনি মোবারককে মিসরের জনতা ২০১১ সালে ক্ষমতার মসনদ থেকে নিক্ষেপ করে। এরপর বছর গড়িয়ে ২০১৩ সালে গিয়েও মিসরের পুলিশ বাহিনীর তরফ হতে চলতে থাকে অধিকারের দাবিতে কর্মবিরতির মতো গনবিরোধী অসহযোগ তৎপরতা। এসময় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়া রাষ্ট্রপতি মুহাম্মাদ মুরসির প্রশাসনের সাথে অসহযোগিতা করতে থাকে ওরা। মুরসি ০৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনের বছরখানেক হওয়ার পর একজন সাধারণ মিসরীয় নাগরিক তার স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গেলে দায়িত্বশীল পুলিশ তাকে বলে দেয় যে-
"থানায় এসে লাভ নাই। আমরা আগামী ০৫ বছর ছুটিতে আছি!"
স্বাধীনতা অর্জন থেকে রক্ষা করা কঠিন।
Comments
Post a Comment