আজ শ্রীলঙ্কার State Intelligence Service (SIS) এর ফরমার ডিরেক্টরকে একটি ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বন্দি করেছে। যে হামলার কিনা কৃতিত্ব দাবি করেছিল খোদ 𝗜𝗦𝗜𝗦!
হামলাটির ফলে সেদিন দেশটিতে ২৬৯ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন। আর, হামলার কারণে ঐ বছরটিতে হওয়া শ্রীলঙ্কার নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে গিয়েছিল। পরবর্তীতে নিজেদের একটি ডকুমেন্টারিতে Channel 4 তুলে ধরে যে, হামলাটি হয়তো '১৯ সালের নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে পরিচালিত অপারেশনের অংশ ছিল।
আমাদের বাংলাদেশিদের শামীমা বেগমের কথা মনে আছে আশা করি সবার। বৃটিশ সিটিজেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। 𝗜𝗦𝗜𝗦 𝗚𝗜𝗥𝗟 বলে যার পরিচিতি দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল!
কনফিডেনশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফাইল থেকে দুনিয়ার সকল সংবাদসংস্থা আজ জানতে পেরেছে যে, Canadian Security Intelligence Service (𝗖𝗦𝗜𝗦) এর একজন গুপ্তচর মূলত শামীমাকে তার আণ্ডারকাভার অপারেশনের অংশ হিসাবে মগজ-ধোলাই করে সিরিয়াতে নিয়ে গিয়েছিল!
মুহাম্মদ আল-রাশিদ, 𝗜𝗦𝗜𝗦 এর পক্ষে হিঊম্যান ট্র্যাফিকিং তৎপরতার অন্যতম রিং লিডার ও কানাডিয়ান ইন্টেলিজেন্সের গুপ্তচর মূলত শামীমা বেগম, খাদিজা সুলতানা এবং আমিরা আব্বাসি নামের তিন স্কুলছাত্রীকে ওনার কানাডিয়ান হ্যাণ্ডলারের পরামর্শে ফুঁসলিয়ে বৃটেন হতে সিরিয়াতে পাচার করে দিয়েছিলেন। ওনার আলোচ্য যে মানব পাচারের রিং নিয়ন্ত্রিত হতো সিরিয়ায় অবস্থিত 𝗜𝗦 এর কথিত খিলাফতের সদরদপ্তর রাক্বা শহর থেকে। আর, ওপরের আলোচ্য মেয়েদের কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠনটির 𝗦𝗲𝘅 𝗦𝗹𝗮𝘃𝗲 তথা যৌনদাসীতে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে কানাডিয়ান ইন্টেলিজেন্স যখন পাচার করে, তখন তাঁদের কারো বয়সই ১৬ বছরের উর্ধ্বে ছিল না। কিশোরী তিন স্কুলছাত্রী তখন পেশাদারভাবে প্রশিক্ষিত Manipulator 'দের ভয়ঙ্কর Manipulation এর শিকার হয়ে সিরিয়ায় যেতে বাধ্য হয়েছিল।
মুহাম্মদ আল-রাশিদ সন্ত্রাসী সংগঠন 𝗜𝗦 এর মানব পাচারকারী গ্রুপের তুরস্ক অঞ্চলের দায়িত্বশীল হিসাবে কাজ করতেন। শামীমা বেগমদের সীমান্ত অতিক্রম করানোর পূর্বে কমপক্ষে ০৮ মাস যাবত যিনি উক্ত সংগঠন এবং কানাডিয়ানদের হয়ে আলোচ্য দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সন্ত্রাসী সংগঠনটিতে রাশিদ জবাবদিহি করতেন কুখ্যাত এক বৃটিশ 𝗜𝗦𝗜𝗦 অপারেটিভ রাফায়েল হোঁস্তের কাছে। রাফায়েল ওনাকে সরাসরি ওর অধীনে কাজ করে বৃটেন থেকে নতুন রিক্রুট স্মাগল করে ওদের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করে।
মুহাম্মদ আল-রাশিদ কেন এই কাজ করেছেন! এই প্রশ্নের উত্তরও পেয়েছেন জার্নালিস্টরা। জর্ডান থেকে আগত এই পৈশাচিক অপারেটিভ ২০১৩ সালে জর্দানের কানাডিয়ান দূতাবাসে আশ্রয়ের আবেদন জানায়। বিপরীতে তখন দূতাবাস থেকে বলা হয় যে, "তুমি আমাদের হয়ে গুপ্তচর হিসাবে 𝗜𝗦 এর সাথে কাজ করলে তোমাকে কানাডিয়ান সিটিজেনশিপ দিব আমরা!"
রাশিদ এরপর ২০১৫ সালে ওনার বন্দি হওয়ার আগ পর্যন্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটার সাথে মানব-পাচারের কাজে যুক্ত ছিলেন।
মুহাম্মদ আল-রাশিদের এই আণ্ডারকাভার তৎপরতা এবং ইন্টেলিজেন্স গ্যাদারিং ছিলো 𝗙𝗶𝘃𝗲 𝗘𝘆𝗲𝘀 নামক কুখ্যাত ইন্টেলিজেন্স জোটের একটি স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনের খুব ক্ষুদ্র একাংশ। যে জোটের সদস্য দেশগুলো হলো - "বৃটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিঊজিল্যান্ড।"
এবং শামীমা বেগম শুধুমাত্র একটি "𝘊𝘰𝘷𝘦𝘳 𝘶𝘱 𝘨𝘰𝘯𝘦 𝘸𝘳𝘰𝘯𝘨।" শামীমা বেগমকে যেদিন 𝗙𝗶𝘃𝗲 𝗘𝘆𝗲𝘀 এর কানাডিয়ান অ্যাসেট সিরিয়ার দিকে বৃটেন থেকে পাচার করছিলো, ঠিক একইসময়ে শামীমা ও তাঁর সঙ্গীদের খোঁজে ইন্টারন্যাশনাল সার্চ রান করছিলো স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ড তথা বৃটিশ পুলিশ। কাকতালীয়ভাবে কিছুদিন পরেই তুর্কি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে রাশিদের কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে গেলে তুর্কিয়ের General Directorate of Security (GDS) তথা তুর্কি পুলিশ রাশিদকে ধরে ফেলে। রাশিদ তখন বিনা-দ্বিধায় ওর কাছে থাকা শামীমার পাসপোর্টের ছবি তুর্কিদের সাথে শেয়ার করে এবং বৃটিশ 𝗠𝗜-𝟱 কে কাভার-আপের প্রসিডিওর লঞ্চ করার সংকেত দেয়। কানাডিয়ানদের অ্যাসেট বার্ন হয়ে যাচ্ছে ও অপারেশনের লিকের ঝুঁকি তৈরি হতে আরম্ভ করেছে বুঝতে পেরে বিষয়টি ঘটে যাওয়া ঠেকাতে তৎক্ষণাৎ কাজে নামে বৃটিশ মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স। ওরা স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ডে গিয়ে ভয়াবহ চাপ প্রয়োগ করে ইন্টারন্যাশনাল সার্চ নামক পুলিশি তোল-পাড় থামিয়ে দিতে বাধ্য করে এবং শামীমাকে পরবর্তীতে 𝘴𝘤𝘢𝘱𝘦 𝘨𝘰𝘢𝘵 হিসাবে ব্যবহারের চেষ্টা চালায়। এর অংশ হিসাবে তাঁর বৃটিশ নাগরিকত্ব কেঁড়ে নেওয়া হয়। পিতৃভূমি বাংলাদেশও তাঁকে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায় 𝗜𝗦𝗜𝗦 সংশ্লিষ্ট ইতিহাসের কারণে।
𝗙𝗶𝘃𝗲 𝗘𝘆𝗲𝘀 নামক এই দানব রাশিদের ন্যায় অসংখ্য অপারেটিভকে ব্যবহার করে এভাবে বছরের পর বছর সন্ত্রাসী সংগঠনটির কাছে ম্যানপাওয়ার সাপ্লাই করেছে। রাশিদরাও নাগরিকত্ব, অর্থ, নারীর লোভে এভাবে নিষ্পাপ কিশোর-কিশোরীদের মগজ-ধোলাই করে পাঠিয়ে দিয়েছে পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে। একইসাথে রিক্রুটদের ডকুমেন্ট জমা করা হয়েছে জোটের সদরদপ্তরগুলোয়। আজকের এই ইন্টেলিজেন্স লিক তাই 𝗜𝗦 পশ্চিমাদের প্রোডাকশন বলে পরিচিত থিওরীর সত্যতায় আরো রসদ জোগালো। একইসাথে আপাতদৃষ্টিতে নিরপরাধ ও নোংরা এবং ধূসর ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্ল্ডের ভিক্টিম শামীমাকেও যে তার হারানো অধিকার ফেরত পাওয়ার যুদ্ধে রসদ জোগালো, তাতেও কোনো সন্দেহ নেই।
বৃটিশ এবং কানাডিয়ান ইন্টেলিজেন্সের সাথে যোগাযোগ করা হলে, ওনারা ক্লাসিফায়েড ইন্টেলিজেন্স অপারেশন সম্পর্কে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে, ওনারা এই তথ্যগুলোকে অস্বীকারও করেননি। যার অর্থ, শামীমার সন্ত্রাসীদের খপ্পরে পড়া ছিলো ওনাদের একটি অপারেশনের অংশ। সাংবাদিকেরা পাশাপাশি কানাডিয়ান অ্যাসেট এবং শামীমা ও তাঁর সঙ্গিনীদের মধ্যকার সাক্ষাতের ভিডিও ফুটেজও হাতে পেয়েছেন। তাই আসলে ওদের কাছে অস্বীকারের সুযোগও থাকছে না।
ধন্যবাদ।
(লেখাটি ৩১শে আগস্ট, ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। আজ শ্রীলঙ্কার State Intelligence Service (SIS) এর ফরমার ডিরেক্টরকে I$I$ এর দাবি করা একটি ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বন্দি করেছে। ফলে, পুনরায় প্রকাশ করা হলো)
Comments
Post a Comment